অস্ত্রাগার পাহারা দিচ্ছিলেন সম্রাট, হঠাৎ নিজের আগ্নেয়াস্ত্রেই শেষ করলেন প্রাণ!

খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত রেলওয়ে পুলিশ লাইনে এক মর্মান্তিক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। শনিবার ভোর আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে নিজের ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে মাথায় গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেছেন সম্রাট বিশ্বাস নামের এক পুলিশ কনস্টেবল। অত্যন্ত স্পর্শকাতর এলাকা হিসেবে পরিচিত অস্ত্রাগার (ম্যাগাজিন গার্ড) পাহারায় নিয়োজিত থাকাকালীন তিনি এই চরম পথ বেছে নেন।

নিহত কনস্টেবল সম্রাট বিশ্বাসের গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলায়। তিনি খুলনা রেলওয়ে পুলিশে কর্মরত ছিলেন। ঘটনার সময় বিকট গুলির শব্দ শুনে সহকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে পুলিশের খুলনা অঞ্চলের সিনিয়র কর্মকর্তারা এবং খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটও আলামত সংগ্রহের জন্য ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

প্রাথমিক তদন্ত ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সম্রাট বিশ্বাস কর্তব্যরত অবস্থায় ডিউটি পোস্টেই নিজের কপালে বন্দুক ঠেকিয়ে ট্রিগার চাপেন। তবে ঠিক কী কারণে বা কোন মানসিক যন্ত্রণা থেকে তিনি এমন আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সে সম্পর্কে এখনও সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছে এবং তার সহকর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

খুলনা জেলা রেলওয়ের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার আহমাদ মাইনুল হাসান এই দুঃখজনক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, "রেল পুলিশের কনস্টেবল সম্রাট বিশ্বাস ম্যাগাজিন গার্ড এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে নিজের কপালে বন্দুক ঠেকিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। কেন তিনি এমন ঘটনা ঘটালেন, তা আমরা খতিয়ে দেখছি। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের (Autopsy) জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।"

এই ঘটনার পর খুলনা রেলওয়ে পুলিশ লাইনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সম্রাটের কোনো ব্যক্তিগত বা পারিবারিক সমস্যা ছিল কি না, কিংবা কর্মক্ষেত্রে কোনো চাপের মুখে ছিলেন কি না, তা তদন্তের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া