২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার এক অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে পতন ঘটেছিল দীর্ঘদিনের শাসনামলের। এর ঠিক তিন দিন পর দেশের হাল ধরেছিল ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ক্যালেন্ডারের পাতায় সময় গড়িয়ে এখন বিদায়লগ্নে দাঁড়িয়ে বর্তমান প্রশাসন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। যদি সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোয়, তবে আগামী ২০ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই একটি নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
এই আসন্ন পরিবর্তনের ঢেউ ইতিমধ্যেই লেগেছে প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়ে। সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নীতিনির্ধারক থেকে শুরু করে উপদেষ্টারা এখন বিদায়ের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, অনেক উপদেষ্টা ইতিমধ্যেই তাঁদের সরকারি পাসপোর্ট জমা দেওয়া শুরু করেছেন এবং সরকারি বাসভবন ছেড়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছেন। সচিবালয়ের করিডোরগুলোতে এখন বিরাজ করছে এক ধরনের ঢিলেঢালা ভাব। নতুন কোনো দীর্ঘমেয়াদী ‘প্রজেক্ট’ বা উন্নয়ন প্রকল্পের ফাইলে সই না করার জন্য উপদেষ্টা ও সচিবদের পক্ষ থেকে অলিখিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে বিদায়ের আগে নিজেদের কাজের খতিয়ান জাতির সামনে তুলে ধরতে আজ ব্যস্ত সময় পার করছেন বেশ কয়েকজন উপদেষ্টা।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন ও সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে আজ পৃথক ‘প্রেস ব্রিফিং’ করবেন উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। একইভাবে নৌপথ মন্ত্রণালয়ের সাফল্য নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করার কথা রয়েছে উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেনের।
এদিকে, বিদায়ের আমেজ সবচেয়ে বেশি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বেইলি রোড ও হেয়ার রোডের সরকারি বাসভবনগুলোতে। প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী খোদা বকশ চৌধুরী বেইলি রোডের মিনিস্টার অ্যাপার্টমেন্টের বরাদ্দকৃত বাসাটি ছেড়ে দিয়েছেন। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খানও গত ৩১ জানুয়ারি গুলশানের সরকারি বাসভবন ত্যাগ করেছেন। এর আগে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া তাঁর হেয়ার রোডের বাসভবনটি বুঝিয়ে দিয়েছেন। এছাড়াও আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, তথ্য ও পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রেজওয়ানা হাসান এবং শিক্ষা উপদেষ্টা ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দারও তাঁদের দাপ্তরিক কার্যক্রম গুছিয়ে এনেছেন এবং বাসা ছাড়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।
প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যেও এবার এক ধরনের সতর্কাবস্থান লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার আমলারা নিজেদের নিরপেক্ষ প্রমাণের পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়েছেন। দলীয় লেজুড়বৃত্তির কারণে অতীতে অনেককে কারাবরণ কিংবা ওএসডি হতে হয়েছে, সেই তিক্ত স্মৃতি মনে রেখে এবার ডিসি ও ইউএনওরা নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা কঠোরভাবে পালনের অঙ্গীকার করেছেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর কোনো রকম কালক্ষেপণ না করেই দ্রুততম সময়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা বুঝিয়ে দেওয়া হবে। সেই লক্ষ্যেই এখন ক্যাবিনেট বিভাগ এবং গণপূর্ত অধিদপ্তর নতুন মন্ত্রীদের অভ্যর্থনা জানাতে অফিস ও বাসভবন প্রস্তুতের কাজ শুরু করেছে।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।