খেলার ছলে প্রাণ গেল স্কুলছাত্রের, অবশেষে চূড়ান্ত রায় দিলেন আদালত

নেত্রকোনার আটপাড়ায় ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে এক দশক আগে সংঘটিত হওয়া চাঞ্চল্যকর স্কুলছাত্র মুন্না মিয়া হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। সহপাঠীকে পিটিয়ে হত্যার দায়ে চার আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে নেত্রকোনা জেলা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ড. এমদাদুল হক এই তাৎপর্যপূর্ণ রায় প্রদান করেন।

আদালতের রায়ে প্রধান অভিযুক্ত সাগর মিয়াকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া একই মামলায় রোমান মিয়াকে ৭ বছর এবং মো. শাকিল ও রবিন মিয়াকে ৫ বছর করে কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন বিচারক। কারাদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেক দণ্ডিতকে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত এই চার যুবকের বাড়িই নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলায়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া চলাকালীন তারা জামিনে মুক্ত থাকলেও রায়ের দিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন এবং রায় ঘোষণার পরপরই সাজা পরোয়ানামূলে তাদের জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৩ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি আটপাড়া উপজেলার কাওপুর গ্রামের খিলা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র মুন্না মিয়া নিজ বাড়ির পাশের মাঠে সহপাঠীদের সাথে ক্রিকেট খেলছিল। খেলার একপর্যায়ে একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুন্নার সাথে সাগর ও অন্যদের তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে সহপাঠীরা ক্ষিপ্ত হয়ে হাতের কাছে থাকা খেলার স্টাম্প এবং ব্যাট দিয়ে মুন্নাকে নির্দয়ভাবে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন ৫ ফেব্রুয়ারি না ফেরার দেশে চলে যায় মেধাবী ছাত্র মুন্না।

এই মর্মান্তিক ঘটনার বিচার চেয়ে ১১ ফেব্রুয়ারি মুন্নার বাবা মৌলা মিয়া বাদী হয়ে আটপাড়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশি তদন্ত শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হলে দীর্ঘ আইনি লড়াই শুরু হয়। বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষ মোট ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করে। ঘটনার প্রায় ১১ বছর পর সাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এই রায় ঘোষণা করেন।

আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় আসামিরা অপ্রাপ্তবয়স্ক থাকলেও বর্তমানে তারা প্রাপ্তবয়স্ক। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও ন্যায়বিচার পাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহতের পরিবার ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা। ক্রিকেট মাঠের এই দুঃখজনক ঘটনাটি তৎকালীন সময়ে জেলাজুড়ে ব্যাপক শোকের ছায়া ফেলেছিল।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া