খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়ি উপজেলার গহীন পাহাড়ের দুর্গম জনপদে বসবাসরত অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। পাহাড়ের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় আধুনিক চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে গুইমারা রিজিয়নের আওতাধীন সিন্দুকছড়ি জোনের উদ্যোগে পরিচালিত হয়েছে এক বিশাল ‘মেডিকেল ক্যাম্পেইন’ ও চক্ষু শিবির। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত উপজেলার যোগ্যছোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই মানবিক সেবা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।
পাহাড়ের দুর্গম এলাকায় যাতায়াত ব্যবস্থা প্রতিকূল হওয়ায় অনেক সময়ই দরিদ্র মানুষেরা উন্নত চিকিৎসার সুযোগ পান না। সেই বাস্তবতাকে সামনে রেখেই সিন্দুকছড়ি জোনের এই মহতি আয়োজন। এই বিশেষ ক্যাম্পে চিকিৎসা প্রদান করেন চট্টগ্রাম লায়ন্স হসপিটালের একদল বিশেষজ্ঞ চক্ষু চিকিৎসক ও তাদের মেডিকেল টিম। পাশাপাশি চট্টগ্রাম সদর দপ্তর থেকে আগত অভিজ্ঞ শিশু বিশেষজ্ঞ এবং সিন্দুকছড়ি জোন সদরদপ্তরের দক্ষ মেডিকেল অফিসার ও সহায়ক দল দিনভর নিরলসভাবে রোগীদের সেবা প্রদান করেন।
সকাল থেকেই স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। দিনব্যাপী এই ক্যাম্পে প্রায় ১০০০ থেকে ১৫০০ জন পাহাড়ি ও বাঙালি রোগী সরাসরি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের কাছ থেকে পরামর্শ গ্রহণ করেন। শুধুমাত্র ব্যবস্থাপত্র প্রদানই নয়, রোগীদের মাঝে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় উচ্চমানের ওষুধ ও চোখের চশমা বিতরণ করা হয়। বিশেষ এই উদ্যোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে, লায়ন্স চক্ষু হাসপাতালের সৌজন্যে ও সিন্দুকছড়ি জোনের বিশেষ ব্যবস্থাপনায় ১০০ জন রোগীকে বিনামূল্যে ছানি অপারেশন করার জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা হয়েছে। এদের উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিতে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করবে সেনাবাহিনী।
স্থানীয় বাসিন্দারা সেনাবাহিনীর এই মানবিক উদ্যোগকে পরম আশির্বাদ হিসেবে দেখছেন। সুবিধাভোগী একাধিক ব্যক্তি আবেগাপ্লুত কণ্ঠে জানান, অর্থাভাব ও শহরের হাসপাতালে যাতায়াতের সামর্থ্য না থাকায় তারা দীর্ঘসময় ধরে নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। সেনাবাহিনীর এই ‘মেডিকেল ক্যাম্প’ তাদের জন্য নতুন জীবনের প্রত্যাশা নিয়ে এসেছে। পাহাড়ের শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের ধারায় সেনাবাহিনীর এমন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া