সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া মিথ্যা তথ্য ও প্রোপাগান্ডা রুখতে বড় ধরনের আইনি ও প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। এই লক্ষ্যে বিশেষ একটি প্রকল্প গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি; তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়) জাহেদ উর রহমান। আজ বুধবার (২৫ মার্চ) সচিবালয়ে বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের এক মাস পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি প্রকাশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জাহেদ উর রহমান সামাজিক মাধ্যমের বর্তমান পরিস্থিতির একটি উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেন। তিনি একটি নতুন প্রবণতার কথা উল্লেখ করে বলেন, বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত ও মূলধারার নিউজ মিডিয়ার লোগো হুবহু নকল করে ভিন্ন নামে বিভ্রান্তিকর খবর ছড়ানো হচ্ছে। দূর থেকে এগুলো দেখতে আসল মিডিয়ার মতো মনে হলেও আসলে তা 'ডিসইনফরমেশন' বা অপপ্রচারের একটি কৌশল। তিনি একে 'মারাত্মক অ্যালার্মিং' বলে অভিহিত করেন। অনেক ক্ষেত্রে একে 'স্যাটায়ার' বা ব্যঙ্গাত্মক উপস্থাপনা বলা হলেও, প্রতিষ্ঠিত মিডিয়ার পরিচয় ব্যবহার করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোকে তিনি স্পষ্টত একটি 'অপরাধ' হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
উপদেষ্টা আরও জানান যে, এই সংকট মোকাবিলায় সরকার অত্যন্ত দ্রুততার সাথে একটি কাঠামোগত ব্যবস্থা গড়ে তুলবে। তিনি বলেন, "আমরা সামাজিক মাধ্যমের কার্যক্রমের সাথে আরও নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার জন্য একটি বিশেষ প্রকল্প হাতে নিয়েছি। প্রকল্পটির নাম রাখা হয়েছে— 'নিউ মিডিয়ার সর্বোত্তম ব্যবহার ও স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান তৈরির মাধ্যমে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ও অধীনস্থ দপ্তর-সংস্থার কার্যক্রমের সঙ্গে জনসাধারণের সম্পৃক্ততা জোরদারকরণ'।"
প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হবে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়া মিথ্যা তথ্য শনাক্ত করা, সেগুলোকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে 'ডিবাঙ্ক' বা মিথ্যে প্রমাণ করা এবং সঠিক তথ্যটি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। জাহেদ উর রহমান গভীর আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, অনেক সচেতন মানুষও যাচাই না করে এই সব ভুয়া খবর শেয়ার করছেন। তাই সরকার একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও আইনের অধীনে এই ডিসইনফরমেশন মোকাবিলা করতে চায়। এর মাধ্যমে মানুষকে যেমন সচেতন করা হবে, তেমনি অপরাধীদের বোঝানো হবে যে এটি একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
উক্ত সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এবং তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মাহবুবা ফারজানা। সরকারের নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন ঘটলে ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা আরও সহজতর হবে।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।