ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গুম ও অমানুষিক নির্যাতনের বিচার চাইতে সুদূর যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরেছেন ভুক্তভোগী মশিউর রহমান (মামুন)। সোমবার (২০ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদসহ একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগে শেখ হাসিনা ছাড়াও অন্য যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন— প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমেদ। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তিকে এই অভিযোগে আসামি করা হয়েছে।
অভিযোগকারী মশিউর রহমান মামুন যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য ছিলেন। তিনি ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে গণমাধ্যমকে জানান, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে তাঁকে একাধিকবার গুমের শিকার হতে হয়েছে। ২০১৩ সালে প্রথমবারের মতো তাঁকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর ২০১৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পুনরায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাঁকে গুম করে। দীর্ঘ ছয় মাস তাঁকে অন্ধকার গুমঘরে বন্দি রেখে চালানো হয় অবর্ণনীয় এবং অমানুষিক নির্যাতন।
নিজের দুঃসহ স্মৃতির বর্ণনা দিয়ে মশিউর রহমান বলেন, “২০১৫ সালের ২৩ আগস্ট আমাকে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে হাজির করা হয়। এর আগে ছয় মাস আমি কোথায় ছিলাম, কেমন ছিলাম—তা কেউ জানত না। ডিবি হেফাজত থেকে আমাকে আদালতে তুলে রিমান্ডে নেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে কারাগারে পাঠানো হয়। কারামুক্ত হওয়ার পর একপর্যায়ে জীবন বাঁচাতে আমি যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমাতে বাধ্য হই।”
দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে ন্যায়বিচারের আশায় দেশে ফিরেছেন তিনি। মশিউর অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রীয় মদতে চালানো সেই ভয়াবহ নির্যাতনের ফলে তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে পঙ্গু হয়ে পড়েছেন। গুমকালীন শারীরিক নির্যাতনের প্রভাবে তিনি এখন স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা বা হাঁটাচলা করতে পারেন না। একে ‘পরিকল্পিত রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
উল্লেখ্য, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে একের পর এক গুম, হত্যা ও নির্যাতনের অভিযোগ জমা পড়ছে। মশিউর রহমানের এই অভিযোগের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা সরকারের আমলের বিচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের আরেকটি লোমহর্ষক চিত্র সামনে এল।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।