বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, যদি কেউ দুর্নীতি বা জনগণের ক্ষতি করেন এবং তা প্রমাণিত হয়, তবে তাকে ‘ঘাড় ধরে বের করে দেওয়া হবে’। আজ রবিবার দুপুরে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই কঠোর বার্তা দেন। মন্ত্রীর এমন মন্তব্যে প্রশাসনের সর্বস্তরে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
সভায় সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে আফরোজা খানম বলেন, "সরকারের নির্দেশিত কাজগুলো সঠিকভাবে সম্পন্ন করাই আপনাদের প্রধান দায়িত্ব। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দিন-রাত নিরলসভাবে জনগণের কল্যাণে কাজ করে চলেছেন। ১৭ বছরের দীর্ঘ সংগ্রাম ও জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে এই সরকার গঠিত হয়েছে। এই সরকারের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখার গুরুদায়িত্ব আমাদের সবার।" তিনি আরও যোগ করেন, "বিগত সময়ে কে কী করেছেন, সে বিষয়টি বাদ দিলাম। এখন থেকে সবাইকে অবশ্যই সচেতন হতে হবে। আপনারা যদি ভালো কাজ করেন, তবে অবশ্যই পুরস্কৃত হবেন। আমি সব সময় আপনাদের পাশে আছি।"
বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী কর্মক্ষেত্রে সততা ও জবাবদিহিতার ওপর জোর দিয়ে বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের কাজের প্রতিবেদন দেখে তাদের কাজের মূল্যায়ন করা হবে। তিনি স্বীকার করেন, "অনেক সমস্যা এবং সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এরপরও জনগণের কল্যাণের জন্য অবিরাম কাজ করে যেতে হবে। এই সকল সমস্যা ও সীমাবদ্ধতা আমরা ধীরে ধীরে সমাধান করব। জনগণকে এই মর্মে আশ্বস্ত করতে হবে যে আমরা তাদের জন্য কাজ করতে এসেছি।" মন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, "যতদিন আপনারা এই পদে আছেন, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করবেন। রাস্তাঘাট ও ব্রিজসহ সকল অবকাঠামো জনগণের কল্যাণের জন্য নির্মিত হচ্ছে। কেউ যদি ১০০ ভাগ কাজের মধ্যে ৬০ ভাগ চুরি করেন, তাহলে তো সব প্রচেষ্টাই বৃথা হয়ে যাবে। তাই দুর্নীতি থেকে সবাইকে দূরে থাকতে হবে।" তিনি আরও বলেন, "সততা, ন্যায়নিষ্ঠা ও আদর্শ নিয়ে কাজ করলে মানুষের হৃদয়ে চিরস্থায়ী স্থান করে নেওয়া যায়। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের দুর্নীতির যে দুর্নাম ছিল, তা যেন আমাদের বহন করতে না হয়। এ বিষয়ে সবাইকে সর্বোচ্চ সচেতন থাকতে হবে।"
সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীদের উদ্দেশে বিমানমন্ত্রী বিশেষভাবে সতর্ক করে বলেন, "আমি কিন্তু কোনো ধরনের অন্যায় বা গাফিলতি বরদাশত করব না। রাস্তাঘাট নির্মাণে জনগণের অনেক কষ্টার্জিত অর্থের ব্যবহার হয়। সেই রাস্তাঘাট নির্মাণ করতে গিয়ে অনেক ইঞ্জিনিয়ার গাফিলতি করেন। অনেক ক্ষেত্রে মূল কন্ট্রাক্টররা (ঠিকাদার) সাব-কন্ট্রাক্টরদের দিয়ে কাজ করান, যার ফলে কাজের মান খারাপ হয় এবং সাব-কন্ট্রাক্টররা নিঃস্ব হয়ে যান। সাব-কন্ট্রাক্টরদের দ্বারা যেন কোনো কাজ না হয়। এমনকি তিনি যদি আমার দলের লোকও হন, তাহলেও তাকে কাজ দেওয়া যাবে না। একমাত্র যোগ্য কন্ট্রাক্টরকেই কাজ দিতে হবে, যাঁর কাজ সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা আছে, তিনিই কাজ পাবেন।"
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী নাসরিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভায় উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানেরা নিজ নিজ দপ্তরের কার্যক্রম বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। এছাড়াও সভায় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানবৃন্দ, সরকারি দপ্তরগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।