কাতারে এক মাসের জন্য বাড়ানো হলো সব ভিসার সময়সীমা

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারে বসবাসরত প্রবাসী ও বিভিন্ন দেশ থেকে আসা পর্যটকদের জন্য বড় ধরনের স্বস্তির খবর দিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বর্তমান পরিস্থিতি ও মানবিক দিক বিবেচনা করে মেয়াদোত্তীর্ণ বা মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া সব ধরনের ভিসার মেয়াদ আরও এক মাস বাড়ানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে কাতার কর্তৃপক্ষ।


আজ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে এই নতুন আদেশ কার্যকর হবে এবং পরবর্তী এক মাস পর্যন্ত ভিসার এই বর্ধিত মেয়াদ বহাল থাকবে। কাতার থেকে প্রাপ্ত কূটনৈতিক সূত্র এবং স্থানীয় প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘দোহা নিউজ’ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতির প্রয়োজনীয়তা সাপেক্ষে এই সময়সীমা ভবিষ্যতে আরও বাড়ানো হতে পারে।


এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে কাজ করেছে জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা। জানা গেছে, গত সোমবার কাতার সরকার আয়োজিত বিদেশি কূটনীতিকদের এক বিশেষ ‘ব্রিফিং’ সভায় অধিকাংশ দেশের প্রতিনিধিরা তাদের নাগরিকদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর জন্য বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছিলেন। বিভিন্ন দেশের সেই প্রস্তাবনা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে কাতার প্রশাসন আজ এই ইতিবাচক সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে। কাতারস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসও বিষয়টি নিশ্চিত করে দেশটিতে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছে।


কাতার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই ভিসা বৃদ্ধির প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ ‘ইলেকট্রনিক সিস্টেম’-এর মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হবে। এর জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে কোনো প্রকার অতিরিক্ত ‘ফি’ প্রদান করতে হবে না। এমনকি এই সুবিধা পাওয়ার জন্য কোনো সরকারি দপ্তরে সশরীরে উপস্থিত হওয়া কিংবা নতুন করে কোনো আবেদনপত্র জমা দেওয়ারও প্রয়োজন পড়বে না। যা প্রবাসীদের জন্য এক বিরাট আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও ভোগান্তি কমিয়ে দেবে।


তবে একটি শর্তারোপ করেছে মন্ত্রণালয়। ২৮ ফেব্রুয়ারির আগে যাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল এবং যারা ইতোমধ্যে আইন লঙ্ঘন করেছেন, তাদের ক্ষেত্রে আগের সময়ের জন্য নির্ধারিত জরিমানা অবশ্যই পরিশোধ করতে হবে। জরিমানা পরিশোধের পর উল্লিখিত তারিখ থেকে তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই এক মাসের বর্ধিত মেয়াদ ও ফি মওকুফের সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন।


স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, কাতারে অবস্থানরত বিদেশি বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের আইনি নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তারা নিয়মিতভাবে বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনে প্রবাসীদের সুবিধার্থে আরও নতুন ‘ডেডলাইন’ বা কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণে পিছপা হবেন না। এই ঘোষণার ফলে কয়েক লাখ প্রবাসী ও ভ্রমণকারীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।


ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।