আমেরিকা হোক বা আফ্রিকা—জ্বালানি আসবেই! দেশের জ্বালানি সংকট নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

বৈশ্বিক অর্থনীতির টালমাটাল পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সংকটের যে বিশাল চাপ তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানায় সীমাবদ্ধ থাকবে না বাংলাদেশ। উত্তর আমেরিকা কিংবা আফ্রিকা-প্রয়োজনে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।


মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। তিনি জানান, গ্যাস ও বিদ্যুতের সরবরাহ যেন কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয়, সে বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে অত্যন্ত সচেষ্ট ভূমিকা পালন করা হচ্ছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই বিপুল পরিমাণ জ্বালানি আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় ‘ফান্ডিং’ বা অর্থায়ন ইতিমধ্যেই নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে আসন্ন দিনগুলোতে জ্বালানি নিয়ে বড় কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।


এর আগে উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর উত্তরাঞ্চলের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত উন্নয়ন বৈষম্য নিরসন এবং এই জনপদে শিল্পায়নের নতুন দ্বার উন্মোচনের লক্ষ্যে কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটের বিসিক (BSCIC) শিল্পনগরীসহ বিভিন্ন শিল্প এলাকা সরজমিনে পরিদর্শন করেন। উত্তরাঞ্চলের ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতিতে কীভাবে প্রাণসঞ্চার করা যায়, সে বিষয়ে সরকারের ভবিষ্যৎ ‘মাস্টার প্ল্যান’ তুলে ধরে তিনি বলেন, "আমরা এই অঞ্চলের শিল্পায়নের জন্য সম্ভাবনাময় খাতগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও চিহ্নিত করেছি। বিশেষ করে কৃষিজাত পণ্যের ব্যাপক শিল্পায়নের মাধ্যমে এই এলাকার চেহারা বদলে দেওয়া সম্ভব।"


উপদেষ্টা আরও বলেন, আলু, ভুট্টা ও টমেটো প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের পাশাপাশি গবাদিপশুর দুধজাত পণ্যের কারখানা গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া উত্তরাঞ্চলের নদ-নদী থেকে প্রাপ্ত প্রচুর পরিমাণ উচ্চমানের নুড়িপাথর ব্যবহার করে এই অঞ্চলেই আধুনিক গ্লাস ফ্যাক্টরি (Glass Factory) নির্মাণ করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।


বিগত দিনের বঞ্চনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, "অতীতে রাষ্ট্রযন্ত্র এই অঞ্চলের উন্নয়ন নিয়ে কার্যকর কোনো ভাবনাচিন্তা করেনি। তবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী ইশতেহারে (Manifesto) সমতাভিত্তিক আঞ্চলিক উন্নয়নের যে রূপরেখা দেওয়া হয়েছে, আমরা সেটি বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর।" কৃষিনির্ভর এই অঞ্চলে কলকারখানা স্থাপিত হলে বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


পরিদর্শন শেষে একই দিনে কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটের স্থানীয় উদ্যোক্তা এবং প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি উন্মুক্ত মতবিনিময় সভায় মিলিত হন উপদেষ্টা। উক্ত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু। সভায় স্থানীয় শিল্প উদ্যোক্তারা তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন এবং সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়।


ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।