স্ট্রাইক রেট বাড়াতে ‘ডাউন দ্য ট্র্যাকে’ চার-ছক্কার মহড়া; নতুন কৌশল নিয়ে বিশ্বকাপের ময়দানে টাইগ্রেসরা

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ইংল্যান্ডের মাটিতে বসতে যাচ্ছে নারী টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের জমকালো আসর। এই বিশ্বমঞ্চে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের লক্ষে এবার এক ভিন্নধর্মী রণকৌশল নিয়ে দেশ ছাড়ছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। যদিও সর্বশেষ তিনটি দ্বিপক্ষীয় সিরিজে জয়ের দেখা না পাওয়ায় টাইগ্রেস শিবিরে কিছুটা অস্বস্তি রয়েছে, তবে সেই ব্যর্থতা ঝেড়ে ফেলে নতুন উদ্যমে মাঠে নামতে মরিয়া নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। আজ রাত ও পরশু সকালে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে ইংল্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেবেন ক্রিকেটাররা।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ব্যাটিংয়ে ‘ফ্ল্যাট’ উইকেটের সুবিধা নিতে না পারা এবং ধীরগতির রান তোলার হার টিম ম্যানেজমেন্টের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। তবে বিশ্বকাপের এই বিশেষ ‘ডেডলাইন’ সামনে রেখে কোচ সরোয়ার ইমরান ব্যাটারদের মানসিকতা ও খেলার ধরনে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের চেষ্টা করেছেন। গত কয়েক মাস ধরে ব্যাটারদের স্ট্রাইক রেট বাড়ানোর লক্ষে ‘ডাউন দ্য উইকেটে’ এসে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করার নিবিড় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সরোয়ার ইমরান অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে জানিয়েছেন, ব্যাটাররা যদি অনুশীলনের প্রতিফলন ঘটাতে পারেন, তবে বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচে তাঁদের ব্যক্তিগত স্ট্রাইক রেট ১০০-এর উপরে থাকবে।

বিশ্বকাপের মূল লড়াইয়ে নামার আগে স্কটল্যান্ডে স্বাগতিক দেশ ও নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে একটি ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। অধিনায়ক নিগার সুলতানা এই সিরিজকে ‘অ্যাডাপ্টেশন’ বা ইংল্যান্ডের কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নেওয়ার সেরা সুযোগ হিসেবে দেখছেন। নিগার নিজে সাম্প্রতিক শ্রীলঙ্কা সিরিজে ফর্মে না থাকলেও, বিশ্বকাপে বড় রান পাওয়ার বিষয়ে তিনি শতভাগ আশাবাদী। তিনি জানান, দলের চাওয়া অনুযায়ী যেকোনো পজিশনে দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি প্রস্তুত।

এদিকে দলের বোলিং বিভাগে কিছুটা ঘাটতি রয়েছে, বিশেষ করে বিশেষজ্ঞ পেসার সংকটে ভুগছে লাল-সবুজের দল। ইংল্যান্ডের পেস সহায়ক কন্ডিশনেও বাংলাদেশ মূলত তাঁদের চিরাচরিত ‘স্পিন অ্যাটাক’-এর ওপরই ভরসা রাখছে। মারুফা আক্তারকে নিয়ে পেস আক্রমণে শুরুটা ভালো করার পরিকল্পনা থাকলেও, মাঝ ওভারে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ রাখার গুরুভার থাকছে অভিজ্ঞ স্পিনার নাহিদা আক্তারের কাঁধে। নাহিদা স্পষ্ট জানিয়েছেন, যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বোলিং করার চ্যালেঞ্জ নেওয়ার সক্ষমতা তাঁদের রয়েছে।

বিশ্বকাপের ‘গ্রুপ অফ ডেথ’-এ বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়া, ভারত, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং নেদারল্যান্ডস। ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার সাথে শক্তির ব্যবধান থাকলেও, টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটের অনিশ্চয়তাকে পুঁজি করে যেকোনো দলকে হারানোর স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। আগামী ১৪ জুন বার্মিংহামে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে টাইগ্রেসদের বিশ্বকাপ অভিযান। পুরো দেশ এখন তাকিয়ে আছে নিগারদের ব্যাটের ঝলক আর স্পিনারদের ঘূর্ণিজাদুর দিকে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।