সিলেট টেস্টে কি ফিরছেন বাবর আজম? পাকিস্তান শিবির থেকে এল বড় সুখবর

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার চলমান টেস্ট সিরিজের ভাগ্য নির্ধারণী ম্যাচে দর্শকদের জন্য বড় এক চমক অপেক্ষা করছে। হাঁটুর অনাকাঙ্ক্ষিত চোটের কারণে মিরপুরে সিরিজের প্রথম টেস্টে মাঠে নামতে না পারলেও, দ্বিতীয় টেস্টের আগেই পুরোপুরি ফিট হয়ে ওঠার জোরালো সংকেত দিয়েছেন পাকিস্তানের ব্যাটিং স্তম্ভ বাবর আজম। পাকিস্তান টিম ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাবর আজম বর্তমানে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছেন এবং দলের অনুশীলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছেন। তাঁর এই ফিরে আসা সিলেটে অনুষ্ঠিতব্য দ্বিতীয় টেস্টে টাইগার বোলারদের জন্য এক কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

উল্লেখ্য, সদ্য সমাপ্ত পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) পেশাওয়ার জালমিকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে শিরোপা জেতানোর পর এক আকাশ সমান আত্মবিশ্বাস নিয়ে ঢাকায় পা রেখেছিলেন বাবর আজম। ওই টুর্নামেন্টে ১০ ইনিংসে ৫৮৮ রান সংগ্রহ করে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের মর্যাদাও ছিল তাঁর দখলে। কিন্তু অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনকভাবে, মিরপুর টেস্ট শুরুর ঠিক আগের দিন অনুশীলনের সময় তাঁর পুরনো হাঁটুর ব্যথা নতুন করে মাথাচাড়া দেয়। ফলে কোনো ঝুঁকি না নিয়ে দলীয় ব্যবস্থাপনা তাঁকে প্রথম ম্যাচের ‘স্কোয়াড’ থেকে বিশ্রাম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

তবে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এবং পাকিস্তান দলের অভ্যন্তরীণ সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বাবর আজম এখন অনেকটাই শঙ্কামুক্ত। বর্তমানে দলের ব্যাটিং কোচের নিবিড় তত্ত্বাবধানে দীর্ঘ সময় ধরে নেটে ব্যাটিং অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছেন এই ডানহাতি ব্যাটার। পুরো অনুশীলন সেশন জুড়ে দলের ফিজিও এবং ফিটনেস ট্রেনাররা তাঁকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন। বিস্ময়কর বিষয় হলো, ব্যাটিং করার সময় কিংবা উইকেটের মাঝে দৌড়ঝাঁপের ক্ষেত্রে বাবরের মধ্যে কোনো ধরনের শারীরিক অস্বস্তি লক্ষ্য করা যায়নি। তাঁর সাবলীল পদচারণা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, সিলেটের উইকেটে পাকিস্তান তাঁদের সেরা অস্ত্রটিকে পেতে যাচ্ছে।

আগামী ১৬ থেকে ২০ মে সিলেটের নয়নাভিরাম স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট ম্যাচটি। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাবর আজমের ইনজুরিটি শুরু থেকেই খুব বেশি গুরুতর ছিল না। তবে দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকির কথা চিন্তা করে এবং পেশাদারিত্ব বজায় রাখতেই প্রথম ম্যাচে তাঁকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছিল। যদিও বাবর নিজে প্রথম টেস্ট থেকেই খেলার বিষয়ে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন, কিন্তু টিম ম্যানেজমেন্টের দূরদর্শী সিদ্ধান্তের কারণে তাঁকে ড্রেসিংরুমে বসে সতীর্থদের খেলা দেখতে হয়েছে। এখন বাবর আজম যদি চূড়ান্ত একাদশে ফেরেন, তবে তা পাকিস্তানের ব্যাটিং গভীরতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে এবং বাংলাদেশের বোলারদের ওপর নতুন করে মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করবে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।