বায়ার্ন নামক আতঙ্ক কাটাতে এমবাপ্পে-ভিনিসিয়ুসকে কী করতে হবে? মুখ খুললেন কিংবদন্তি লুইস ফিগো

ফুটবল বিশ্বে একটি কথা প্রচলিত আছে—চ্যাম্পিয়নস লিগ আর রিয়াল মাদ্রিদ যেন একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। প্রথম লেগে ২-১ গোলে পিছিয়ে থেকেও বায়ার্ন মিউনিখের মতো জায়ান্টদের বিপক্ষে রিয়াল মাদ্রিদ ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কি না, তা নিয়ে যখন ফুটবল বিশ্ব দ্বিধাবিভক্ত, ঠিক তখনই রিয়ালের রাজকীয় ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন লুইস ফিগো। পর্তুগিজ এই কিংবদন্তি মনে করেন, অন্য যেকোনো দলের জন্য এই প্রতিকূলতা পাহাড়সম মনে হলেও রিয়ালের জন্য এটি কেবল একটি নতুন ‘মিরাকল’ বা অলৌকিক প্রত্যাবর্তনের মঞ্চ।

প্রথম লেগের হার নিয়ে রিয়াল শিবির এখন বেশ চাপে। বায়ার্ন কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানি লিড পাওয়ার পরও নিজের দলকে সতর্ক করেছেন, কারণ তিনি জানেন সাদা জার্সির দলটির মরণকামড় কতটা ভয়ংকর হতে পারে। লুইস ফিগো বায়ার্নকে নিজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষ হিসেবে স্বীকার করেও রিয়ালের ওপর আস্থা রাখছেন। বার্সেলোনা, রিয়াল মাদ্রিদ ও ইন্টার মিলানের হয়ে বায়ার্নের বিপক্ষে ১১টি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ফিগো বলেন, "২-১ ব্যবধান কাটিয়ে ওঠা সহজ নয়, তবে যদি কোনো দল তা করতে পারে, তবে সেটি রিয়াল মাদ্রিদ। এই প্রতিযোগিতার ইতিহাস এবং দলের বর্তমান প্রতিভার বিচারে তারা সেমিফাইনালে ওঠার পূর্ণ দাবিদার।"

মিউনিখের লড়াইয়ে রিয়ালের জয়ের চাবিকাঠি কোথায়? ফিগো এক্ষেত্রে কিলিয়ান এমবাপ্পে ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ‘কার্যকারিতার’ ওপর জোর দিয়েছেন। প্রথম লেগে এই দুই তারকার ফিনিশিংয়ে যে ঘাটতি ছিল, তা মিউনিখে কাটিয়ে ওঠার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তবে ফিগোর মতে, গোলের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো বায়ার্নের বিধ্বংসী আক্রমণভাগকে সামলানো এবং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ দ্রুত নিজেদের হাতে নেওয়া। অযথা চাপে না পড়ে বায়ার্নকে তাদের স্বাভাবিক খেলা খেলতে না দেওয়াই হবে রিয়ালের আসল কৌশল।

এদিকে রিয়ালের জন্য বড় এক ধাক্কা হয়ে এসেছে মিডফিল্ডার অরেলিঁয়ে চুয়েমেনির নিষেধাজ্ঞা। মাঝমাঠের এই বিশ্বস্ত সেনানীকে ছাড়া রিয়াল মিউনিখের প্রতিকূল পরিবেশে কতটা ভারসাম্য বজায় রাখতে পারবে, তা নিয়ে জল্পনা চলছে। তবে ফিগো এক্ষেত্রে জুড বেলিংহামকেই ট্রাম্প কার্ড হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, "বেলিংহাম চুয়েমেনির অভাব পূরণ করতে সক্ষম। প্রথম লেগে বদলি হিসেবে নেমে সে খেলার গতিপথ বদলে দিয়েছিল। এমন বড় ম্যাচে বেলিংহামকে শুরু থেকেই মাঠে থাকা উচিত।"

অন্যদিকে বায়ার্নের তরুণ তুর্কি মাইকেল ওলিসের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ফিগো। ওলিসেকে ভবিষ্যতের ‘ব্যালন ডি’অর’ জয়ী হিসেবে দেখছেন তিনি। ফিগোর মতে, ওলিসের রিয়াল মাদ্রিদসহ বিশ্বের যেকোনো ক্লাবে খেলার যোগ্যতা রয়েছে। সব মিলিয়ে কাল রাতের ফুটবল যুদ্ধ কেবল দুই দলের লড়াই নয়, বরং ফিগোর মতো তারকাদের ভবিষ্যৎবাণী আর রিয়ালের রাজকীয় আভিজাত্যের এক অগ্নিপরীক্ষা। মিউনিখের ‘অ্যালিয়েঞ্জ এরেনা’ কি আবারও মাদ্রিদ মিরাকলের সাক্ষী হবে, না কি বায়ার্নের দাপটে চুরমার হবে লস ব্লাঙ্কোসদের স্বপ্ন—তা দেখার অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।