বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে দীর্ঘ ফরম্যাটের লড়াইয়ে সূচিত হলো এক অভূতপূর্ব ও স্বর্ণালি অধ্যায়। সিলেটে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ বা ধবলধোলাই করার পরপরই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে বড় ধরনের এক উল্লম্ফন ঘটেছে। নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দল একলাফে দুই ধাপ এগিয়ে এখন বিশ্বের সপ্তম সেরা টেস্ট দলে পরিণত হয়েছে। টেস্ট ক্রিকেটের আভিজাত্যের লড়াইয়ে এর আগে বাংলাদেশ কখনোই এই অবস্থানে পৌঁছাতে পারেনি। আজ বুধবার (২০ মে ২০২৬) সিলেট টেস্ট শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আইসিসি তাদের র্যাঙ্কিং হালনাগাদ করে এই সুখবর দেয়।
আইসিসি প্রকাশিত নতুন তালিকা অনুযায়ী, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে নবম স্থান থেকে সরাসরি সপ্তম স্থানে উঠে এসেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এর আগে ২০১৮ সালে টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে অষ্টম স্থান অর্জন করা ছিল বাংলাদেশের সেরা সাফল্য। আজ সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করল টাইগাররা। অন্যদিকে, বাংলাদেশের কাছে সিরিজ হেরে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে পাকিস্তান। র্যাঙ্কিংয়ের ষষ্ঠ স্থান থেকে দুই ধাপ নিচে নেমে বাবর-মাসুদদের বর্তমান অবস্থান এখন অষ্টম। এক ধাপ অবনমন হয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ চলে গেছে নবম স্থানে।
পরিসংখ্যানের বিচারে দেখা যায়, পাকিস্তানকে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ হারিয়ে বাংলাদেশ বিপুল রেটিং পয়েন্ট অর্জন করেছে। সিরিজের আগে বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্ট ছিল ৬৭, যা বর্তমানে ১১ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৮-এ। বিপরীতে পাকিস্তান বড় ধরনের ধসের শিকার হয়েছে; ৮৯ রেটিং পয়েন্ট থেকে ১৪ পয়েন্ট হারিয়ে তাঁদের বর্তমান সংগ্রহ ৭৫। অর্থাৎ কেবল ম্যাচ জয়ই নয়, রেটিং ব্যবধানেও চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে পেছনে ফেলেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের ঠিক ওপরেই রয়েছে শ্রীলঙ্কা, যাদের রেটিং পয়েন্ট ৮৬।
বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৩১ পয়েন্ট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার রাজত্ব এখনো অটুট। দক্ষিণ আফ্রিকা (১১৯), ভারত (১০৪), ইংল্যান্ড (১০২) এবং নিউজিল্যান্ড (১০১) যথাক্রমে দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে, জিম্বাবুয়ে ১০ পয়েন্ট নিয়ে তালিকায় থাকলেও আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ডকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, তিন বছরের চক্রে নূন্যতম আটটি টেস্ট ম্যাচ না খেলায় এই দুই দেশ র্যাঙ্কিং টেবিলের বাইরে রয়েছে।
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, বিদেশের মাটিতে পাকিস্তান বধের পর ঘরের মাঠে এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা বাংলাদেশের টেস্ট আভিজাত্যকে বিশ্ব দরবারে নতুন এক উচ্চতায় নিয়ে গেছে। এই অর্জন কেবল একটি পরিসংখ্যান নয়, বরং এটি টেস্ট ক্রিকেটে টাইগারদের ক্রমবর্ধমান শক্তি ও পরিণতবোধের এক অনন্য স্মারক।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।