নেইমার কি আজ মাঠে, না কি শুধুই ডাগআউটের শোভাবর্ধন? কাটছে না ‘মরীচিকা’ রহস্য

বিশ্বকাপের মহাগুরুত্বপূর্ণ নকআউট পর্বে আজ রাতে নরওয়ের মুখোমুখি হচ্ছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। ফুটবল বিশ্বের নজর এখন এই ‘হাই-ভোল্টেজ’ লড়াইয়ের দিকে। তবে মাঠের লড়াই ছাপিয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে—ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার নেইমার জুনিয়র কি আজ মাঠে নামবেন, না কি আবারও কেবল ‘মরীচিকা’ হয়ে ডাগআউটেই বসে থাকবেন? ফুটবলপ্রেমীদের কাছে নেইমার এখন এমন এক রহস্য, যাকে দূর থেকে দেখা গেলেও ছোঁয়া যাচ্ছে না।

আজকের ম্যাচে ফুটবল বিশ্ব যেখানে ‘নেইমার বনাম হলান্ড’ দ্বৈরথ দেখার অপেক্ষায় ছিল, সেখানে আলোচনার কেন্দ্রে জায়গা করে নিয়েছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। প্রকৃতি যেমন শূন্যস্থান পছন্দ করে না, তেমনি নেইমারের দীর্ঘ অনুপস্থিতি ভিনিকে সেই মঞ্চে তুলে এনেছে। তবে প্রকৃতি কি নেইমারকে আদৌ পছন্দ করে? এই প্রশ্ন ওঠা অস্বাভাবিক নয়। কারণ অনিশ্চয়তা প্রকৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ, আর এই বিশ্বকাপে নেইমারও যেন সেই অনিশ্চয়তার জালে বন্দী।

ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি সম্প্রতি ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম ‘ফোলিয়া দে সাও পাওলো’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, নেইমার বর্তমানে পুরো ৯০ মিনিট খেলার মতো ‘ফিট’। তবে নিজের কথার রেশ ধরেই তিনি একটি রহস্য জিইয়ে রেখেছেন। আনচেলত্তি বলেছেন, “ও কতক্ষণ খেলবে, তা আগে থেকে বলার সুযোগ নেই। যখনই মনে করব দলের ওকে প্রয়োজন, তখনই ও মাঠে নামবে।” কোচের এমন দ্ব্যর্থবোধক বক্তব্যে ফুটবল বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নেইমার আজও কেবল বেঞ্চের শোভা বাড়িয়ে শেষ করতে পারেন।

নেইমারের এবারের বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু হয়েছে পায়ের চোট নিয়ে এক বুক শঙ্কা নিয়ে। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে মাত্র ১৪ মিনিটের জন্য মাঠে নেমেছিলেন তিনি। সেই ক্ষণস্থায়ী উপস্থিতিতেই তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে কেঁদেছেন, সন্তানকে কোলে নিয়ে আদর করেছেন—যে দৃশ্যগুলো ‘সোশ্যাল মিডিয়ায়’ ব্যাপক ভাইরাল হয়েছিল। মনে হয়েছিল, ওই সামান্য সময়ের উপস্থিতিই বুঝি তাঁর কাছে পরম প্রাপ্তি। এরপর জাপানের বিপক্ষে ম্যাচেও তাঁকে নামানোর প্রয়োজন পড়েনি আনচেলত্তির। চার ম্যাচ মিলিয়ে নেইমারের নামের পাশে জমা হয়েছে মাত্র ১৪ মিনিটের খেলার রেকর্ড।

অথচ বিশ্বকাপের আগে আলোচনা জমেছিল মেসি, রোনালদো, এমবাপ্পে ও নেইমারকে ঘিরে। অন্য তারকারা যখন মাঠের পারফরম্যান্সে একে অপরকে ছাপিয়ে যাওয়ার দৌড়ে ব্যস্ত, নেইমার তখন ডাগআউটে বসে কেবল সময় গুণছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে জাতীয় দলের জার্সিতে ফেরার জন্য তাঁর যে ক্ষুধা ছিল, তা আপাতত আনচেলত্তির দেওয়া ‘প্রশংসাপত্রের’ মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কোচ তাকে ‘অমায়িক’, ‘বিনয়ী’ ও ‘পেশাদার’ বলে আখ্যা দিয়েছেন—যা শুনে মনে হয় মেলায় যেতে না পারা এক সন্তানকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন বাবা।

বিশ্বকাপ এখন চূড়ান্ত রোমাঞ্চের পথে। ব্রাজিল যদি ফাইনালে পৌঁছায়, তবে নেইমারের সামনে সুযোগ থাকবে বড়জোর চারটি ম্যাচ। ভক্তদের প্রত্যাশা থাকবে প্রতিটি মিনিটেই তাঁকে দেখার, কিন্তু সেই প্রত্যাশা কি আদৌ পূরণ হবে না কি মরীচিকার মতোই মিলিয়ে যাবে, তা সময়ই বলে দেবে। বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট কিংবা গোল্ডেন বলের দৌড়ে থাকার পরিবর্তে কোচের দেওয়া ‘চারিত্রিক সনদ’ নিয়ে সন্তুষ্ট থাকাটা সম্ভবত নেইমারের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি।


ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।