ব্রাজিলের ফুটবলে একটি অত্যন্ত বর্ণাঢ্য এবং দীর্ঘ অধ্যায়ের অবসান ঘটল। ফুটবল বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় মেগাস্টার নেইমার জুনিয়র সেলেসাওদের জার্সিতে নিজের শেষ ম্যাচটি খেলে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের চূড়ান্ত ঘোষণা দিয়েছেন। ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ১৬-র লড়াইয়ে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে ব্রাজিলের বিদায় নেওয়ার পরপরই এই আবেগঘন সিদ্ধান্ত জানান তিনি। তাঁর এই ঘোষণা ফুটবল বিশ্বে এক বিশাল শূন্যতার সৃষ্টি করেছে।
ম্যাচ শেষে অশ্রুসিক্ত নয়নে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন নেইমার। তাঁর কণ্ঠে ছিল বিদায়ের সুর আর ক্লান্তি। তিনি বলেন, ‘আমি চেষ্টা করেছি। আমি চেষ্টা করেছি। মেট লাইফ স্টেডিয়ামে শুরু হয়েছিল, এখানেই শেষ হলো। এখন সব শেষ।’ উল্লেখ্য, নিউ জার্সির এই মেট লাইফ স্টেডিয়ামেই ২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের মাধ্যমে ব্রাজিলের হয়ে নেইমারের অভিষেক হয়েছিল। যে মাঠে ক্যারিয়ারের শুভসূচনা হয়েছিল, সেই একই মাঠে বিদায় নিয়ে এক অদ্ভুত আবেগপূর্ণ বৃত্ত পূর্ণ করলেন এই সাম্বা জাদুকর।
ব্রাজিলের জার্সি গায়ে নেইমারের ক্যারিয়ার পরিসংখ্যান যে কাউকেই মুগ্ধ করবে। তিনি বর্তমানে দেশটির ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। ২০২২ বিশ্বকাপে কিংবদন্তি পেলের ৭৭ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করার পর, ২০২৬ বিশ্বকাপে তিনি নিজের গোলসংখ্যা ৮০-তে উন্নীত করেন। ব্রাজিলের ইতিহাসে শ্রেষ্ঠত্বের আসনে নিজেকে আসীন করেই তিনি বুট জোড়া তুলে রাখার সিদ্ধান্ত নিলেন। তাঁর এই রেকর্ড ভাঙা সম্ভবত বর্তমান প্রজন্মের অন্য কোনো ফুটবলারের জন্য এক দীর্ঘ চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।
জাতীয় দলের হয়ে নেইমার একাধিকবার শিরোপার খুব কাছে গেলেও তাঁর একমাত্র আক্ষেপ হয়ে থাকবে বিশ্বকাপ শিরোপাটি। ২০১৩ সালে ব্রাজিলকে ফিফা কনফেডারেশন্স কাপ জেতাতে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছিলেন তিনি এবং জিতেছিলেন আসরের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার। ২০২১ সালের কোপা আমেরিকায় দলকে ফাইনালে তুললেও চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয় তাঁর। বিশ্বকাপে নেইমারের সেরা সাফল্য ২০১৪ আসরের সেমিফাইনালে ওঠা, যদিও গুরুতর ইনজুরির কারণে সেই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তিনি মাঠে থাকতে পারেননি। পরবর্তী দুটি আসরে তিনি দলকে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত টেনে নিলেও এবার শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিতে হলো তাঁকে। নেইমারের বিদায় কেবল ব্রাজিলের জন্য নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের একটি আইকনিক যুগের অবসান হিসেবেই দেখছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।