খালি পায়ে লড়াই থেকে বিশ্বমঞ্চে: ফুটবল পরাশক্তিদের থোড়াই কেয়ার পানামা স্ট্রাইকারের

বিশ্ব ফুটবলের মহাযজ্ঞ শুরু হতে আর খুব বেশি সময় বাকি নেই। ফুটবল মানচিত্রে পানামা হয়তো খুব বড় কোনো শক্তি নয়, কিন্তু তাদের ড্রেসিংরুমে বইছে এক অদম্য জেদ আর সাহসের হাওয়া। বিশেষ করে দলের প্রধান কাণ্ডারি ও নির্ভরযোগ্য ‘স্ট্রাইকার’ ইসমাইল দিয়াজ যেভাবে হুঙ্কার ছেড়েছেন, তাতে নড়েচড়ে বসতে বাধ্য হচ্ছে প্রতিপক্ষ দলগুলো। আসন্ন বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড ও ক্রোয়েশিয়ার মতো ফুটবল পরাশক্তিদের সঙ্গে একই ‘গ্রুপ’-এ লড়াই করতে হবে পানামাকে। তবে নামী দামী সব প্রতিপক্ষের শক্তিমত্তা নিয়ে মোটেও চিন্তিত নন এই লড়াকু ফুটবলার।

ইসমাইল দিয়াজের ফুটবলার হয়ে ওঠার গল্পটা যেকোনো রূপকথাকেও হার মানায়। মাত্র ১৫ বছর বয়সে পেশাদার ‘ক্লাব’ ফুটবলের আঙিনায় পা রাখা এই প্রতিভার জাতীয় দলের অভিষেক হয়েছিল মাত্র ১৭ বছর বয়সে। আর প্রথম ম্যাচেই গোল করে নিজের জাত চিনিয়েছিলেন তিনি। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফাকে (FIFA) দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে দিয়াজ তাঁর জীবনের সেই সংগ্রামমুখর দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করেন। শৈশবের স্মৃতি হাতড়ে তিনি বলেন, “আমি ছোটবেলায় আমার ভাই আর বন্ধুদের সঙ্গে রাস্তার ধুলোবালিতে ফুটবল খেলতাম। আমাদের পায়ে দামি জুতো ছিল না, আমরা খালি পায়েই খেলতাম। খেলতে গিয়ে পা ছিলে যেত, চোট পেতাম। কিন্তু সেই যন্ত্রণাকে তুচ্ছ করে পরের দিন আবারও তপ্ত রোদে ফুটবল নিয়ে মেঠো পথে নামতাম। সেই কঠিন পথ পাড়ি দিয়েই আজ আমি এই বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়েছি।”

আবেগতাড়িত দিয়াজ মনে করেন, শৈশবের সেই ত্যাগ আর প্রতিকূলতাই তাঁকে আজ একজন শক্তিশালী মানুষ এবং লড়াকু খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তুলেছে। ইংল্যান্ড এবং ক্রোয়েশিয়ার মতো বড় দলগুলোর মুখোমুখি হওয়া প্রসঙ্গে তিনি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে বলেন, “অনেকেই আমাদের গ্রুপটাকে ‘গ্রুপ অফ ডেথ’ বা কঠিন বলছেন। কিন্তু আমার কাছে বিষয়টি দারুণ রোমাঞ্চকর। বিশ্বকাপে যখন আপনি খেলবেন, তখন সেরাদের বিপক্ষেই তো লড়তে হবে। আমরা সেখানে কেবল অভিজ্ঞতা অর্জন করতে বা ঘুরতে যাচ্ছি না; আমরা যাচ্ছি সমানে সমান লড়াই বা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে।”

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিলেও জয়হীন অবস্থায় ফিরতে হয়েছিল পানামাকে। এবার সেই ইতিহাস বদলাতে চান দিয়াজ। তাঁর একমাত্র লক্ষ্য বিশ্বমঞ্চে দেশের হয়ে প্রথম জয়ের স্বাদ নেওয়া। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, “বিশ্বকাপে পানামার হয়ে প্রথম জয় ছিনিয়ে নেওয়া এখন আমার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন। যদি প্রথম ম্যাচেই আমরা সেই অসাধ্য সাধন করতে পারি, তবে সেটি হবে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। আমরা আমাদের সামর্থ্যের সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করব, বাকিটা মাঠের লড়াইয়েই দেখা যাবে।” দিয়াজের এই লড়াকু মানসিকতা পানামা শিবিরে এক নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।