কোরিয়াকে স্তব্ধ করে দক্ষিণ আফ্রিকার মহাকাব্যিক জয়; প্রথমবারের মতো নকআউটে ‘বাফানা বাফানা’

মেক্সিকোর মন্তেরেই স্টেডিয়ামে রেফারির শেষ বাঁশি বাজার সাথে সাথে দক্ষিণ আফ্রিকার পুরো ডাগআউট যেন এক তুফানি উন্মাদনায় মেতে উঠল। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে জয় উদযাপনের সেই দৃশ্য ছিল দেখার মতো; কেউ সতীর্থকে জড়িয়ে ধরছেন, আবার কাউকে দেখা গেল আবেগে মাটিতে গড়াগড়ি খাচ্ছেন। অন্যদিকে, দক্ষিণ কোরিয়ার খেলোয়াড়দের চোখেমুখে তখন অন্ধকার। কেউ মাঠেই বসে পড়েছেন, কেউবা মাথা নিচু করে বিদায়ের ঘণ্টা শুনতে পাচ্ছেন। মূলত একটি মাত্র গোল বদলে দিয়েছে দুই দেশের ফুটবলীয় ভাগ্য।

ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে ছিল সমানে সমান লড়াই। প্রথম দুই ম্যাচ শেষে ৩ পয়েন্ট হাতে থাকা দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য সমীকরণ ছিল সহজ—একটি ড্র করলেই তাঁদের নকআউট নিশ্চিত। বিপরীতে, মাত্র ১ পয়েন্ট নিয়ে মাঠে নামা দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে জয়ের কোনো বিকল্প ছিল না। প্রথমার্ধে দক্ষিণ আফ্রিকা বেশ কয়েকটি আক্রমণ সাজালেও কোরিয়ান ডিফেন্ডার লি গিহিউকের সতর্ক পাহারায় জালের দেখা পায়নি। বিশেষ করে মাসেকোর একটি নিশ্চিত গোলের প্রচেষ্টা শেষ মুহূর্তে নস্যাৎ করে দেন কোরিয়ানরা।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে দক্ষিণ কোরিয়া তাঁদের তুরুপের তাস সোন হিউং-মিনকে মাঠে নামায় আক্রমণের ধার বাড়াতে। কিন্তু কোরিয়ানরা যখন গোলের খোঁজে ওপরে উঠে খেলছিল, ঠিক তখনই মারাত্মক এক কাউন্টার অ্যাটাক বা পাল্টা আক্রমণ হানে দক্ষিণ আফ্রিকা। বদলি খেলোয়াড় তেশপাং মোরেমির বাড়ানো এক নিখুঁত পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ৬৩তম মিনিটে বাম পায়ের অসাধারণ এক শটে বল জালে জড়ান থাপেলো মাসেকো। এই একটি গোলই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের নির্ধারক হয়ে দাঁড়ায়।

দক্ষিণ আফ্রিকার ফুটবল ইতিহাসে এটি এক অবিস্মরণীয় মুহূর্ত। এর আগে ১৯৯৮, ২০০২ এবং ২০১০ বিশ্বকাপে অংশ নিলেও কখনোই তাঁরা গ্রুপ পর্বের বৈতরণী পার হতে পারেনি। এবারের আসরে ৩ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপে দ্বিতীয় স্থান নিশ্চিত করে তাঁরা এখন লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠেয় নকআউট পর্বের জন্য প্রস্তুত। আগামী ২৮ জুন তাঁদের প্রতিপক্ষ শক্তিশালী কানাডা।

একই সময়ে গ্রুপের অন্য ম্যাচে স্বাগতিক মেক্সিকো ৩–০ গোলে চেক প্রজাতন্ত্রকে বিধ্বস্ত করে টানা তিন জয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে পরবর্তী রাউন্ডে উঠেছে। অন্যদিকে, চেক প্রজাতন্ত্র কোনো পয়েন্ট ছাড়াই আসর থেকে বিদায় নিল। দক্ষিণ কোরিয়া ৩ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে থাকলেও তাঁদের বিশ্বকাপ ভাগ্য এখন অন্য গ্রুপগুলোর ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে। সেরা তৃতীয় স্থানধারী আটটি দলের একটি হতে পারলেই কেবল তাঁরা নকআউটে যাওয়ার সুযোগ পাবে। আপাতত সিউলের ফুটবল ভক্তদের জন্য অপেক্ষা ছাড়া আর কিছু করার নেই।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।