কুরাসাওয়ের জালে ৭ গোলের তাণ্ডব! বিশ্বজয়ের লড়াইয়ে কি তবে অপ্রতিরোধ্য ‘জার্মান মেশিন’?

বিশ্ব ফুটবলের চিরকালীন পরাশক্তি জার্মানি যেন ঘুমন্ত এক আগ্নেয়গিরি, যার বিস্ফোরণ দেখল কুরাসাও। বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ৭-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে জয়ের পর জুলিয়ান নাগেলসম্যানের দল এখন আলোচনার তুঙ্গে। এই জয় কেবল বড় ব্যবধানের পরিসংখ্যান নয়, বরং মাঠের প্রতিটি বিভাগেই জার্মানদের একক আধিপত্যের প্রতিফলন। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, নিম্নলিখিত ৭টি কারণে জার্মানি এবার ট্রফি জয়ের অন্যতম প্রধান দাবিদার হতে যাচ্ছে:

১. সেট-পিসে অপ্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি:
জার্মানির এবারের আক্রমণের অন্যতম প্রধান অস্ত্র হয়ে উঠেছে সেট-পিস। কোচ ম্যাডস বুটগেরাইটের বিশেষ কৌশলে কর্নার বা ফ্রি-কিক থেকে গোল আদায় করা এখন তাঁদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কুরাসাওয়ের বিপক্ষে নিকো শ্লটারবেকের গোলটি ছিল তারই প্রমাণ। প্রতিপক্ষের কড়া পাহাড়ার মধ্যেও নাথানিয়েল ব্রাউনের নিখুঁত পাস থেকে শ্লটারবেকের হেড জার্মানদের টেকনিক্যাল উন্নতির বহিঃপ্রকাশ।

২. গোলপোস্টের নিচে অভিজ্ঞ নয়্যার:
৮৩ পেরোনো অমিতাভের মতোই ৩৯ বছর বয়সী ম্যানুয়েল নয়্যার যেন ফুরিয়ে না যাওয়া এক প্রতিষ্ঠান। যদিও কুরাসাও ম্যাচে তাঁর খুব বেশি পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হয়নি, তবে তাঁর উপস্থিতি রক্ষণভাগকে এক আকাশ সমান আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে। পরবর্তী ম্যাচেই তিনি গোলকিপার হিসেবে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার বিশ্বরেকর্ড গড়তে যাচ্ছেন। বড় ম্যাচে নয়্যারের অভিজ্ঞতা জার্মানির জন্য বড় এক ‘প্লাস পয়েন্ট’।

৩. ছন্দে ফেরা জামাল মুসিয়ালা:
বায়ার্ন মিউনিখের এই তরুণ তুর্কিকে নিয়ে গত কয়েকদিন জার্মান সংবাদমাধ্যমে বেশ সমালোচনা হয়েছিল। তবে কুরাসাওয়ের বিপক্ষে তাঁর ‘ট্রেডমার্ক’ ড্রিবলিং আর বিশ্বকাপে করা প্রথম গোলটি সমালোচকদের মুখ বন্ধ করে দিয়েছে। মুসিয়ালার এই ছন্দ ফেরা জার্মানির আক্রমণভাগকে আরও ধারালো করেছে।

৪. নতুন মিডফিল্ডের নিয়ন্ত্রণ:
২০২৪ ইউরোর পর জার্মানি তাঁদের মাঝমাঠকে ঢেলে সাজিয়েছে। ফেলিক্স এনমেচা ও আলেকজান্ডার প্যাভলোভিচের নতুন জুটি মাঝমাঠে যে ‘টিকিতাকা’ (Tiki-taka) পাসিং গেমের পসরা সাজিয়েছে, তাতে প্রতিপক্ষ বলের দখল পেতে হিমশিম খাচ্ছে। তাঁদের এই দারুণ সমন্বয় জার্মানিকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে সাহায্য করছে।

৫. বহুমুখী আক্রমণভাগ:
কুরাসাওয়ের বিপক্ষে জার্মানির ৭টি গোল এসেছে ৬ জন ভিন্ন ভিন্ন খেলোয়াড়ের পা থেকে। কাই হাভার্টজ করেছেন জোড়া গোল। কোনো নির্দিষ্ট এক জন খেলোয়াড়ের ওপর নির্ভরশীল না থেকে দলের প্রায় সবাই গোল করতে পারাটা জার্মানির শক্তির অন্যতম বড় জায়গা।

৬. নাথানিয়েল ব্রাউনের রাজকীয় অভিষেক:
আইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্টের ফুলব্যাক নাথানিয়েল ব্রাউন অভিষেক ম্যাচেই গোল করে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। ডেভিড রাউমের বিকল্প হিসেবে তিনি লেফটব্যাক পজিশনে এক নতুন আস্থার জন্ম দিয়েছেন। নিজের পরিবারের সামনে এমন পারফরম্যান্স তাঁকে পরবর্তী ম্যাচগুলোতে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে।

৭. নিঃস্বার্থ ফ্লোরিয়ান ভির্টৎস:
স্কোরশিটে নাম তুলতে না পারলেও পুরো ম্যাচে ফ্লোরিয়ান ভির্টৎস ছিলেন অনন্য। ফেলিক্স এনমেচার গোল তৈরিতে অবদান রাখার পাশাপাশি তিনি রক্ষণভাগকেও সহায়তা করেছেন। লিভারপুলের হয়ে বাজে সময় কাটানোর পর জাতীয় দলের জার্সিতে তাঁর এই দায়িত্বশীল ফুটবল জার্মানির জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক।

সব মিলিয়ে, সাতটি গোলের সাথে এই সাতটি শক্তিশালী দিক নির্দেশ করছে যে, জার্মানি কেবল অংশ নিতে নয়, বরং পঞ্চমবারের মতো শিরোপা উঁচিয়ে ধরতেই উত্তর আমেরিকায় পা রেখেছে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।