ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের রাজধানী কলকাতার ফুটবল উন্মাদনার অন্যতম প্রতীক হিসেবে পরিচিত লিওনেল মেসির ৭০ ফুট উচ্চতার বিশালাকার ভাস্কর্যটি অপসারিত হয়েছে। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে ফুটবল জাদুকর মেসির কলকাতা সফরকে স্মরণীয় করে রাখতে এবং তাঁর বিশ্বকাপ জয়ের সাফল্যকে উদযাপন করতে এই সোনালি রঙের ভাস্কর্যটি স্থাপন করা হয়েছিল। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তার অভাব সংক্রান্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত সোমবার (১ জুন) প্রশাসনিক এক বিশেষ অভিযানে ভাস্কর্যটি সরিয়ে ফেলা হয়।
সোনালি রঙে রাঙানো এই বিশাল ভাস্কর্যে আর্জেন্টাইন অধিনায়ককে বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরার সেই চিরচেনা ও ঐতিহাসিক মেজাজে ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল। ভাস্কর্যটি স্থাপনের সময় খোদ লিওনেল মেসি ‘অনলাইন’ (Online) ভিডিও কলের মাধ্যমে এর শুভ উদ্বোধন করেছিলেন, যা শহরজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। কিন্তু উদ্বোধনের মাত্র কয়েক মাসের মাথায় এটিকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তে ফুটবল প্রেমীদের মাঝে এক ধরনের বিষাদ আর বিস্ময় তৈরি হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের প্রভাবশালী আইনপ্রণেতা শারদ্বত মুখার্জি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপি-কে (AFP) এই তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, “বিশালাকার এই কাঠামোর ফলে স্থানীয় জনপদে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হচ্ছিল বলে বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে অভিযোগ এসেছিল। জনস্বার্থ ও নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে গত সোমবার বিকেলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এটি সরিয়ে ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়। বর্তমানে ভাস্কর্যটি একটি সরকারি ‘ওয়ারহাউস’ বা গুদামে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে সুবিধাজনক কোনো স্থানে এটি পুনরায় স্থাপনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।”
তবে কেবল নিরাপত্তা নয়, এই অপসারণের পেছনে ‘পলিটিক্যাল’ বা রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও বেশ জোরালো হয়ে উঠেছে। উল্লেখ্য, এই বিশাল প্রজেক্টটি পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতায় নির্মিত হয়েছিল। তবে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর বর্তমান ক্রীড়ামন্ত্রী নীতিশ প্রামাণিক দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই ভাস্কর্যটিকে প্রকাশ্য জনসভায় ‘দৃষ্টিকটু’ বলে অভিহিত করেছিলেন। তাঁর সেই মন্তব্যের মাত্র কয়েক দিনের মাথায় নিরাপত্তার অজুহাতে ভাস্কর্যটি অপসারণ করার বিষয়টিকে বিরোধী শিবির রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবেই দেখছে।
কলকাতার ফুটবল ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতির সাথে মিশে যাওয়া এই ভাস্কর্যটির অপসারণকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বইছে বিতর্কের ঝড়। একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার দাবিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে ফুটবল ভক্তরা মনে করছেন বিশ্বসেরা একজন অ্যাথলেটের (Athlete) এমন সম্মানজনক স্মারকটি রাজনৈতিক দলাদলি থেকে দূরে রাখা উচিত ছিল। আপাতত মেসির সেই আকাশচুম্বী প্রতিকৃতিটি কলকাতার রাজপথ ছেড়ে সরকারি অন্ধকারের চার দেয়ালে বন্দি হলো।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।