আনচেলত্তির ৫৫ সদস্যের তালিকায় নেইমার-এস্তেভাও; রিয়াল মাদ্রিদের দুই তারকার বিদায়

ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে নেইমার জুনিয়র এক অবিচ্ছেদ্য নাম। তবে গত ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে উরুগুয়ের বিপক্ষে সেই ভয়াবহ ইনজুরির পর থেকে জাতীয় দলের জার্সিতে তাঁকে আর দেখা যায়নি। এমনকি কিংবদন্তি কোচ কার্লো আনচেলত্তি ব্রাজিলের দায়িত্ব নেওয়ার পর এখন পর্যন্ত কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচেই নেইমারকে দলে পাননি। ফুটবল বিশ্বের এই পোস্টার বয় ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলতে পারবেন কি না, তা নিয়ে যখন সংশয় দানা বাঁধছিল, ঠিক তখনই আশার আলো দেখাল ব্রাজিলের খ্যাতনামা সংবাদমাধ্যম ‘ও গ্লোবো’ (O Globo)। সংবাদমাধ্যমটির জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ডিয়োগো দান্তাস জানিয়েছেন, ব্রাজিলের ৫৫ সদস্যের প্রাথমিক বিশ্বকাপ দলে নেইমারকে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

ফিফার (FIFA) দাপ্তরিক নিয়ম অনুযায়ী, আগামী সোমবার ১১ মে-র মধ্যে প্রতিটি অংশগ্রহণকারী দলকে ৩৫ থেকে ৫৫ জনের একটি প্রাথমিক তালিকা জমা দিতে হবে। ফিফা মূলত এই তালিকাটি খেলোয়াড়দের বৈধতা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ব্যবহার করে থাকে এবং এটি জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয় না। নিয়ম অনুযায়ী, চূড়ান্ত স্কোয়াডে কোনো পরিবর্তন আনতে হলে সেই খেলোয়াড়কে অবশ্যই এই প্রাথমিক তালিকায় থাকতে হবে। ফলে নেইমারকে প্রাথমিক দলে রাখাটা তাঁর চূড়ান্ত দলে ফেরার প্রথম এবং অপরিহার্য ধাপ।

তবে কেবল নেইমার নন, ব্রাজিলের এই প্রাথমিক তালিকায় জায়গা পেতে যাচ্ছেন চেলসিতে নাম লেখানো বিস্ময়বালক এস্তেভাও। বর্তমানে পালমেইরাসের হয়ে হ্যামস্ট্রিং চোট থেকে সেরে ওঠার লড়াইয়ে থাকা এই তরুণ তুর্কিকে নিয়ে বেশ বড় পরিকল্পনা করছেন আনচেলত্তি। কিন্তু মুদ্রার উল্টো পিঠে রিয়াল মাদ্রিদ ভক্তদের জন্য রয়েছে চরম দুঃসংবাদ। চোটের ভয়াবহতার কারণে দলের দুই প্রধান স্তম্ভ এডার মিলিতাও এবং ফরোয়ার্ড রদ্রিগো বিশ্বকাপ থেকে পুরোপুরি ছিটকে গেছেন। তাঁদের অনুপস্থিতি ব্রাজিলের রক্ষণ ও আক্রমণভাগে বড় এক শূন্যতা তৈরি করবে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।

ব্রাজিলীয় সমর্থকদের আসল উৎকণ্ঠা এখন আগামী ১৮ মে নিয়ে। ফিফার চূড়ান্ত সময়সীমা ১ জুন হলেও, কোচ কার্লো আনচেলত্তি আগামী ১৮ মে ব্রাজিলের ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করবেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। কোচ স্পষ্ট করেছেন যে, নেইমার যদি এই সময়ের মধ্যে নিজেকে শারীরিকভাবে শতভাগ ফিট প্রমাণ করতে পারেন এবং অনুশীলনে ইতিবাচক সাড়া দেন, তবেই চূড়ান্ত তালিকায় তাঁর নাম থাকবে।

উল্লেখ্য, ১ জুন সব দেশের কোচদের তাঁদের প্রাথমিক তালিকা থেকে ছাঁটাই করে চূড়ান্ত স্কোয়াড জমা দেওয়ার ‘ডেডলাইন’ রয়েছে। এরপর ২ জুন ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে সব দলের তালিকা প্রকাশ করবে। আপাতত বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবল প্রেমীর নজর এখন আনচেলত্তির ডায়েরিতে, যেখানে ঝুলে আছে নেইমারের হেক্সা জয়ের শেষ সুযোগের ভাগ্য।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।