আজতেকা স্টেডিয়ামে বেলিংহাম ম্যাজিক: মেক্সিকোকে বিদায় করে শেষ আটে ইংল্যান্ড

মেক্সিকোর ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে ১৯৮৬ বিশ্বকাপের সেই অম্লমধুর স্মৃতির ছায়া কাটল ৪০ বছর পর। স্বাগতিক মেক্সিকোকে তাঁদের ঘরের মাঠেই ৩-২ গোলে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিল গ্যারেথ সাউথগেটের শক্তিশালী ইংল্যান্ড। রুদ্ধশ্বাস এক ৯০ মিনিটের লড়াই শেষে উল্লাসে মাতল ‘থ্রি লায়ন্স’রা, আর চোখের জলে বিদায় নিতে হলো স্বাগতিক সমর্থকদের।

সোমবার (৬ জুলাই) বৈরী আবহাওয়া ও বজ্রঝড়ের কারণে নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক ঘণ্টা পর শুরু হয় এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচ। তবে দেরিতে শুরু হলেও মাঠের উত্তাপে কোনো ঘাটতি ছিল না। ম্যাচের শুরু থেকেই মেক্সিকানদের ওপর আক্রমণাত্মক ফুটবলের স্টিমরোলার চালায় ইংল্যান্ড। প্রথমার্ধেই নিজের জাদুকরী নৈপুণ্য প্রদর্শন করেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা জুড বেলিংহাম। তাঁর করা দুর্দান্ত জোড়া গোলেই ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে বিরতিতে যায় ইংল্যান্ড। মাঝমাঠে বেলিংহামের একক আধিপত্য ও নিখুঁত ‘ট্যাকটিক্স’-এর সামনে মেক্সিকোর রক্ষণভাগ বারবার খেই হারিয়ে ফেলছিল।

বিরতির পর ঘরের মাঠে হাজার হাজার সমর্থকের গগনবিদারী স্লোগানে উজ্জীবিত হয়ে মাঠে ফেরে মেক্সিকো। আক্রমণের ধার বাড়িয়ে তারা ইংল্যান্ডের জালে বল পাঠিয়ে ব্যবধান ২-১ করে ম্যাচে তীব্র উত্তেজনা ফিরিয়ে আনে। স্টেডিয়ামে উপস্থিত সমর্থকদের উন্মাদনায় মনে হচ্ছিল মেক্সিকো হয়তো সমতায় ফিরবে। কিন্তু ঠিক তখনই প্রতি-আক্রমণে ইংল্যান্ড তৃতীয় গোলটি করে স্বাগতিকদের ম্যাচে ফেরার পথে বড় বাধা তৈরি করে। যদিও ম্যাচের একদম অন্তিম লগ্নে মেক্সিকো আরও একটি গোল করে ব্যবধান ৩-২-এ নামিয়ে আনে, কিন্তু সমতায় ফেরার মতো পর্যাপ্ত সময় আর হাতে ছিল না।

শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে আজতেকা স্টেডিয়ামে নেমে আসে বিষাদমাখা নীরবতা। ইংল্যান্ডের সুশৃঙ্খল রক্ষণভাগ ও আক্রমণভাগের কার্যকারিতাই মূলত ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিয়েছে। এই জয়ে শিরোপার অন্যতম প্রধান দাবিদার হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তভাবে বিশ্বকে জানান দিল ইংল্যান্ড। কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখা যাবে ব্রাজিল ও নরওয়ের মধ্যকার মেগা লড়াইয়ের বিজয়ী দলকে।

ঘরের মাঠে এমন হৃদয়বিদারক পরাজয়ে মেক্সিকোর বিশ্বকাপ মিশন এখানেই থেমে গেল। তবে শেষ সেকেন্ড পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্য স্বাগতিকরা ফুটবল বিশ্বের প্রশংসা কুড়িয়েছে। অন্যদিকে, গ্যারেথ সাউথগেটের শিষ্যরা এখন শেষ আটের কঠিন চ্যালেঞ্জের জন্য নতুন পরিকল্পনা সাজাতে ব্যস্ত, যেখানে তাদের একমাত্র লক্ষ্য হলো বছরের সবচেয়ে বড় এই ফুটবল আসরের ‘বাজেট’ বা ট্রফিটি নিজেদের করে নেওয়া।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।