ফুটবল তীর্থস্থান আজতেকা স্টেডিয়াম আজ যেন এক দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসানের সাক্ষী হলো। মেক্সিকোর ফুটবলে দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে যে ‘নকআউট অভিশাপ’ তাড়া করে ফিরছিল, অবশেষে তার যবনিকাপাত ঘটল। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে লাতিন আমেরিকার দেশ ইকুয়েডরকে ২-০ গোলে পরাজিত করে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে হাভিয়ের আগুইরের শিষ্যরা। এর মাধ্যমে ১৯৮৬ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোনো নকআউট ম্যাচে জয়ের গৌরব অর্জন করল মেক্সিকো।
ম্যাচের শুরুটা ছিল নাটকীয়তায় ঠাসা। মেক্সিকো সিটির আকাশে প্রচণ্ড বজ্রঝড় ও বৃষ্টির কারণে কিক-অফ নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা পিছিয়ে যায়। তবে গুমোট আবহাওয়া মাঠের উত্তেজনায় বিন্দুমাত্র ভাটা ফেলতে পারেনি। খেলা শুরু হওয়ার প্রথম ১০ মিনিটেই মেক্সিকো ইকুয়েডরের রক্ষণভাগে মুহুর্মুহু আক্রমণ চালিয়ে চারবার গোলের সম্ভাবনা তৈরি করে। ১৯৬৬ বিশ্বকাপের পর স্বাগতিক দেশ হিসেবে মেক্সিকোকে আগে কখনো এতটা আক্রমণাত্মক ও ক্ষিপ্র মেজাজে দেখা যায়নি।
ম্যাচের ৩১ মিনিটের মধ্যেই ভাগ্য নির্ধারণ করে ফেলে স্বাগতিকরা। কলম্বিয়ায় জন্ম নেওয়া মেক্সিকান উইঙ্গার হুলিয়ান কুইনোনেস বাম প্রান্ত দিয়ে একক প্রচেষ্টায় বক্সে ঢুকে এক দর্শনীয় শটে দলকে এগিয়ে নেন। চলতি টুর্নামেন্টে এটি তাঁর তৃতীয় গোল। এর কিছুক্ষণ পরই কুইনোনেসের সহায়তায় ব্যবধান দ্বিগুণ করেন অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার রাউল হিমেনেজ। ইকুয়েডরের ডিফেন্ডার হোয়েল অরদোনিয়েসের একটি মারাত্মক ভুলের সুযোগ নিয়ে হিমেনেজ জালে বল জড়াতে কোনো ভুল করেননি।
পরিসংখ্যান বলছে, ১৯৮৬ সালে বুলগেরিয়াকে হারানোর পর মেক্সিকো টানা সাতটি বিশ্বকাপে নকআউট পর্বের প্রথম বাধা টপকাতে ব্যর্থ হয়েছিল। ১৯৯৪ থেকে ২০১৮—প্রতিটি আসরেই শেষ ষোলোর মঞ্চে তাঁদের বিদায় নিতে হয়েছিল ট্র্যাজিকভাবে। তবে এবার ঘরের মাঠ আর হাজারো দর্শকের অদম্য সমর্থনে সেই ইতিহাস বদলে দিল তাঁরা।
ম্যাচের শেষ দিকে ইকুয়েডর কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও মেক্সিকোর রক্ষণভাগ ছিল ইস্পাতকঠিন। যোগ করা সময়ে ইকুয়েডরের জন্য পরিস্থিতি আরও শোচনীয় হয়ে ওঠে যখন ডিফেন্ডার পিয়েরো হিনকাপিয়ে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের মুখ চেপে ধরে অখেলোয়াড়সুলভ আচরণের দায়ে ভিএআর (VAR) পর্যালোচনার পর তাঁকে বহিষ্কার করেন রেফারি।
এই ঐতিহাসিক জয়ের পর মেক্সিকো এখন শেষ ষোলোতে মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড অথবা ডিআর কঙ্গোর। আজ রাতে ইংলিশরা কঙ্গোর বাধা টপকাতে পারলে আগামী রোববার আজতেকা স্টেডিয়ামে ফুটবল বিশ্বের আরও একটি হাই-ভোল্টেজ লড়াই দেখার সুযোগ পাবে দর্শকরা। আপাতত ৪০ বছরের হাহাকার মুছে উৎসবে মাতোয়ারা পুরো মেক্সিকো সিটি।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।