গুম ও হত্যার মতো ভয়ংকর মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে করা মামলায় চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীকে আদালতে সশরীরে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই মামলায় অভিযুক্ত আলোচিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানকেও আগামী ১৯ এপ্রিল ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল), বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই গুরুত্বপূর্ণ আদেশ প্রদান করেন। বিচারিক প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। এদিন আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে আসামিদের হাজির করার আবেদন জানান প্রসিকিউটর শাইখ মাহদী।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, এই অভিযোগের মূলে রয়েছে ২০১০ সালের একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা। রাউজানের বাগোয়ান ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু জাফরকে সেই সময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীতে তাকে গুম করার পর হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে ফজলে করিম চৌধুরী ও জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে। প্রসিকিউশন এই ঘটনাটিকে একটি সুপরিকল্পিত মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে অভিহিত করে নতুন মামলা হিসেবে ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করেছেন।
আদালতের এই আদেশ কেবল গুমের মামলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রসিকিউটর শাইখ মাহদী জানান, বিগত জুলাই গণ-আন্দোলনের সময় চট্টগ্রাম নগরীতে ছয়জনকে নির্মমভাবে হত্যা এবং অসংখ্য মানুষকে গুরুতর আহত করার ঘটনায় দায়েরকৃত আরও একটি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ফজলে করিম অন্যতম অভিযুক্ত। ওই মামলায় ফজলে করিমসহ মোট ২২ জন আসামির বিরুদ্ধে আনা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আজ আমলে নিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল-২।
অন্যদিকে, সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে গুম ও হত্যার একাধিক মামলা বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতার অপব্যবহার করে গুমের সংস্কৃতি চালু করার যে অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে রয়েছে, তার বিচারিক কার্যক্রম এখন গতিশীল হচ্ছে। আগামী ১৯ এপ্রিল ট্রাইব্যুনালের নির্ধারিত দিনে এই দুই হাই-প্রোফাইল আসামিকে হাজির করার মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়ার এক নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট আইনজ্ঞরা।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া