হাতকড়া খুলেই হাওয়া! গাজীপুর আদালতে পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে ডাকাত সম্রাটের দুর্ধর্ষ পলায়ন

গাজীপুর জেলা আদালত প্রাঙ্গণে পুলিশের কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেদ করে হাতকড়া খুলে এক দুর্ধর্ষ ডাকাত পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল সোমবার বেলা আড়াইটার দিকে অত্যন্ত নাটকীয় কায়দায় এই পলায়নের ঘটনা ঘটে। পলাতক আসামির নাম সম্রাট হোসেন (২৭), যার বিরুদ্ধে গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক ডাকাতির গুরুতর মামলা রয়েছে। সম্রাটের আদি বাড়ি জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার তাত্তাপাড়া গ্রামে হলেও তিনি দীর্ঘকাল ধরে গাজীপুর মহানগরের গাছা থানার বড়বাড়ী এলাকায় বসবাস করে আসছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বিকেলে গাজীপুর সদর মেট্রো থানার একটি ডাকাতি মামলায় সম্রাটকে বিচারিক প্রক্রিয়ার জন্য আদালত হাজতখানা থেকে এজলাসের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। হাজতখানা থেকে বের করে পুলিশের পাহারায় হাঁটিয়ে নেওয়ার সময় এক অদ্ভুত ক্ষিপ্রতায় নিজের হাতের হাতকড়া খুলে ফেলেন তিনি। কিছু বুঝে ওঠার আগেই দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের ধাক্কা দিয়ে ভিড়ের মধ্যে মিশে যান সম্রাট। মুহূর্তের মধ্যে বিষয়টি টের পেয়ে পুলিশ সদস্যরা পিছু ধাওয়া করলেও জনাকীর্ণ আদালত চত্বরের সুযোগ নিয়ে তিনি সীমানা প্রাচীর টপকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। এই ঘটনা আদালত চত্বরে উপস্থিত আইনজীবী, বিচারপ্রার্থী এবং সাধারণ মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক ও বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে।

গাজীপুর সদর মেট্রো থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, সম্রাটের মতো একজন চিহ্নিত অপরাধীর এভাবে পলায়ন অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাঁকে পুনরায় আইনের আওতায় আনতে ইতিপূর্বেই পুলিশের বিশেষ ‘প্রটোকল’ জারি করা হয়েছে এবং জেলার প্রতিটি প্রবেশপথে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। ওসির দেওয়া তথ্যমতে, সম্রাটকে দ্রুত শনাক্ত করতে তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা হচ্ছে। অপরাধীর সম্ভাব্য অবস্থান শনাক্ত করতে ‘স্মার্টফোন’ ট্র্যাকিং এবং গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে পুলিশের একাধিক বিশেষ টিম বর্তমানে বিভিন্ন স্থানে চিরুনি অভিযান পরিচালনা করছে।

আইনি বিশ্লেষকদের মতে, আদালত প্রাঙ্গণের মতো সংবেদনশীল এলাকা থেকে এভাবে আসামি পলায়ন কেবল পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে না, বরং এটি একটি বড় ধরনের প্রশাসনিক গাফিলতি হিসেবেও গণ্য হতে পারে। এই ঘটনার পর আদালতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার দাবি তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে পলাতক সম্রাটকে ধরতে পুরো গাজীপুর ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করে কড়া নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।