কলেজ হোস্টেল থেকে ২০ হাজার ইয়াবা, তদন্তে চক্রের সন্ধান

কক্সবাজার সরকারি কলেজের নারী হোস্টেল ‘দোলনচাঁপা’ থেকে ২০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় গণিত বিভাগের এক ছাত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে কলেজ প্রশাসনের সহযোগিতায় হোস্টেলে অভিযান চালিয়ে এসব ইয়াবা উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ।

গ্রেপ্তার শিক্ষার্থী কক্সবাজার সরকারি কলেজের গণিত বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী। তার বাড়ি টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা এলাকায়। কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কলেজ কর্তৃপক্ষের সহায়তায় দোলনচাঁপা মহিলা হোস্টেলে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ওই শিক্ষার্থীর হেফাজত থেকে ২০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, টেকনাফের হ্নীলা এলাকা থেকে তার এক আত্মীয় পার্সেলের মাধ্যমে ইয়াবাগুলো পাঠিয়েছিলেন। পরে সেগুলো তার হেফাজতে রাখা হয়। তবে ইয়াবাগুলো কী উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছিল এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত এসব বিষয় এখনো তদন্তাধীন।

ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, এ ঘটনায় একটি চক্র জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। যাচাই-বাছাই ও তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। আটক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াও চলছে।

কলেজের হোস্টেলে এত বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আবাসিক শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও হোস্টেল ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়ভাবে হোস্টেলে নজরদারি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদারের দাবি উঠেছে।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই শিক্ষার্থীর পারিবারিক অবস্থা ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য ছড়ালেও সেসব তথ্যের স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফলে এসব দাবিকে কেন্দ্র করে কোনো সিদ্ধান্তে না গিয়ে পুলিশি তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করাই গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে, স্থানীয় নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা ঘটনাটির নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আবাসিক এলাকায় মাদকদ্রব্যের এমন ঘটনা উদ্বেগজনক। একই সঙ্গে প্রকৃত উৎস, সরবরাহকারী এবং সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ইয়াবার উৎস ও এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্তের পরই পুরো ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত এবং কীভাবে ইয়াবার চালানটি হোস্টেলে পৌঁছেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।