সরকারি চাকরি জোটেনি, ‘আম-মধু’ বেচেই চলে রাজনীতি: জীবনসংগ্রামের অজানা গল্প শোনালেন তারেক রহমান

সরকারি চাকরি জোটেনি, ‘আম-মধু’ বেচেই চলে রাজনীতি: জীবনসংগ্রামের অজানা গল্প শোনালেন তারেক রহমান

জীবনের চড়াই-উতরাই আর কঠোর সংগ্রামের এক আবেগঘন চিত্র তুলে ধরেছেন আমজনতার দলের সদস্য সচিব মো. তারেক রহমান। সরকারি চাকরির উচ্চাকাঙ্ক্ষা থেকে শুরু করে রাজপথের আন্দোলন এবং বর্তমানে আম ও মধুর সফল ব্যবসায়ী হয়ে ওঠার নেপথ্য কাহিনী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছেন তিনি। তার ভাষ্যমতে, এই ব্যবসার লভ্যাংশ দিয়েই তিনি এখন তার যাপিত জীবন ও রাজনীতির ব্যয়ভার বহন করছেন।


গত রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তারেক রহমান নিজের জীবনের বিবর্তন ও রাজনৈতিক দর্শনের কথা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, ক্যারিয়ারের শুরুতে তিনি একজন ‘আইটি’ (IT) ব্যবসায়ী ছিলেন, কিন্তু পরিবারের প্রবল ইচ্ছায় তিনি সরকারি চাকরির পেছনে ছুটতে শুরু করেন। তবে বারবার ‘ভাইভা’ (Viva) বা মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েও তিনি চূড়ান্ত সাফল্যের দেখা পাননি। সেই সময়ের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, শিক্ষক নিয়োগে ৮৪ শতাংশ কোটা এবং রেলওয়েতে ৪০ শতাংশ পোষ্য কোটার মতো ব্যবস্থাই ছিল যোগ্য প্রার্থীদের প্রধান অন্তরায়।


ব্যক্তিগত জীবনে বারবার আশাহত হয়েই তিনি কোটা সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে পড়েন। তারেক রহমান জানান, তারা মেধাবীদের অধিকার রক্ষায় লড়াই করলেও তৎকালীন সরকার একে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেছিল। তাদের প্রস্তাব ছিল প্রতিবন্ধী, নারী ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠী মিলিয়ে মাত্র ১৫ শতাংশ কোটা রাখা। কিন্তু তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জিদ এবং ক্ষোভের কারণে পুরো কোটা পদ্ধতিই বাতিল করে দেওয়া হয়, যা মেধার প্রকৃত মূল্যায়ন নিশ্চিত করেনি বলে তিনি মনে করেন। বিশেষ করে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে নারীদের ৬০ শতাংশ কোটা থেকে এক ধাক্কায় শূন্য শতাংশে নামিয়ে আনাকে তিনি ‘অবিচার’ হিসেবে দেখছেন।


চাকরির সন্ধানে নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি জানান, ২০১৮ সালের আন্দোলনের পর বাখরাবাদ গ্যাস কোম্পানিতে এবং তিনবার ‘ভেরিফিকেশন’ (Verification) হওয়ার পরও সাব-ইন্সপেক্টর (SI) নিয়োগে তাকে বাদ দেওয়া হয়। এমনকি বাংলাদেশ ব্যাংক ও কৃষি ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতি বন্ধের চেষ্টা করতে গিয়ে তিনি চরম শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন।


এসব ‘অ্যাকটিভিজম’ করতে গিয়ে একসময় চাকরির বয়স ও সুযোগ হারিয়ে ফেলেন তারেক। জীবনধারণের তাগিদে তিনি শুরু করেন আমের ব্যবসা। রাজধানীর পলশী এবং আগারগাঁওয়ের পাকা মার্কেটে তার দোকান থাকলেও প্রশাসনের রোষানলে পড়ে বারবার সেগুলো উচ্ছেদ করা হয়। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও দমে না গিয়ে তিনি বর্তমানে অনলাইন বা ‘ভার্চুয়াল’ প্ল্যাটফর্মকে বেছে নিয়েছেন। গ্রীষ্মকালে আম এবং শীতকালে মধুর ব্যবসাই এখন তার প্রধান উপজীব্য।


সদ্য সমাপ্ত জাতীয় নির্বাচনে নিজের পরাজয় প্রসঙ্গে তারেক রহমান অত্যন্ত স্পষ্টবাদী। নির্বাচনে জয়ী হতে না পারলেও তার কোনো আক্ষেপ নেই। তিনি মনে করেন, নেতৃত্ব আসে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে। স্ট্যাটাসের শেষে তিনি জানান, সংসদ সদস্য হতে না পারলেও তিনি তার বর্তমান জীবন নিয়ে অত্যন্ত তৃপ্ত এবং ভবিষ্যতেও আল্লাহ্র ওপর ভরসা রেখে সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করে যেতে চান।


ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।