নেটিজেনদের ‘ভার্চ্যুয়াল বিচার’ নিয়ে বিস্ফোরক নুসরাত ফারিয়া: এক ইঞ্চি ভুলের চড়া মাসুল!

ঢালিউডের গ্ল্যামারাস পর্দার আড়ালে এক জন শিল্পীকে প্রতিদিন কতটা মানসিক ও শারীরিক চাপের মধ্য দিয়ে যেতে হয়, তা নিয়ে এবার খোলামেলা কথা বললেন জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা নুসরাত ফারিয়া। সম্প্রতি রাজধানীর এক অনুষ্ঠানে নিজের ক্যারিয়ারের চড়াই-উতরাই, পর্দার পেছনের সংগ্রাম এবং নেটিজেনদের নির্দয় সমালোচনা নিয়ে তাঁর দেওয়া বক্তব্য এখন বিনোদন অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। ফারিয়ার মতে, তারকাজীবনের এই জৌলুসময় ‘ফেম’ বা খ্যাতির পেছনে প্রতিটি মুহূর্তেই থাকে এক নিরন্তর লড়াই।

শৈশবের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে নুসরাত ফারিয়া জানান, জীবনের প্রতিটি অর্জনই তাঁর জন্য ছিল কঠোর পরিশ্রমের ফসল। তিনি বলেন, “কিছু ছাত্রছাত্রী থাকে যারা প্রচুর পড়াশোনা করেও কখনো ক্লাসে প্রথম বা দ্বিতীয় হতে পারে না; আমি ছিলাম তেমনই এক জন। অনেক চেষ্টার পরেও যখন ভালো রেজাল্ট আসত না, তখন আমার মা আমাকে বলেছিলেন যে কঠোর পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই।” মায়ের সেই শিক্ষাকে পাথেয় করেই তিনি আজ এ অবস্থানে পৌঁছেছেন।

পরিসংখ্যানের বিচারে নুসরাত ফারিয়ার ঝুলিতে এখন পর্যন্ত রয়েছে ২৩টি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র এবং ৭ থেকে ৮টি মৌলিক গান। এ ছাড়াও দেশ-বিদেশ মিলিয়ে সাড়ে পাঁচশোর বেশি স্টেজ পারফরম্যান্সে অংশ নিয়েছেন তিনি। তবে অবাক করার মতো বিষয় হলো, এত দীর্ঘ অভিজ্ঞতার পরেও প্রতিবার ক্যামেরার সামনে বা বড় মঞ্চে দাঁড়ানোর আগে তিনি প্রচণ্ড ‘অ্যাংজাইটি’ বা উদ্বেগে ভোগেন। ফারিয়ার ভাষায়, “প্রতিবারই মনে হয় এটাই আমার ফার্স্ট টেক এবং এটাই আমার লাস্ট টেক। নিজেকে নিখুঁত প্রমাণ করার এই স্নায়ুচাপ আমাকে প্রতিনিয়ত তাড়া করে ফেরে।”

সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে ‘সোশ্যাল মিডিয়া’র নেতিবাচক প্রভাব নিয়েও এক প্রকার ক্ষোভ প্রকাশ করেন এই অভিনেত্রী। তিনি অত্যন্ত আক্ষেপের সাথে বলেন, “জনসমক্ষে আমাদের সবসময় ‘পারফেক্ট’ দেখতে হয়। একদিন যদি আমাদের এক ইঞ্চি মোটা লাগে, তবে নেটিজেনরা পরের দিনই সোশ্যাল মিডিয়াতে আমাদের মেরেই ফেলবে। শুধু বাহ্যিক অবয়ব নয়, কথা বলার সময় সামান্য ভুলচুক হলেও সমালোচনার বন্যা বয়ে যায়।” ডিজিটাল যুগের এই নিষ্ঠুর বাস্তবতার কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি জানান, একজন তারকার জন্য নিজের সেরা ‘পারফরম্যান্স’ দেওয়ার বাইরে বিকল্প কোনো পথ খোলা নেই। তাঁর এই সাহসী স্বীকারোক্তি তথাকথিত গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ডের ভেতরের এক রূঢ় সত্যকেই সবার সামনে উন্মোচিত করল।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।