বলিউডের গ্ল্যামার জগতের ঝলমলে আলোর আড়ালে যে সৌন্দর্যের এক নিষ্ঠুর ও কৃত্রিম মানদণ্ড প্রচলিত রয়েছে, তা নিয়ে এবার বিস্ফোরক সব তথ্য জনসমক্ষে আনলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী দিয়া মির্জা। সম্প্রতি ‘দ্য পিপল’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বিনোদন ইন্ডাস্ট্রির এই অন্ধকার দিকটি নিয়ে আলোচনা করেছেন। দিয়া জানিয়েছেন, কীভাবে ক্যারিয়ারের একেবারে শুরুর দিনগুলোতেই তাঁকে নিজের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বিসর্জন দিয়ে কৃত্রিম রূপ ধারণের জন্য অনবরত মানসিক চাপের মুখে রাখা হয়েছিল। এমনকি তাঁকে ‘কসমেটিক সার্জারি’র মাধ্যমে নিজের শরীরকে আমূল বদলে ফেলার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।
সাক্ষাৎকারে দিয়া মির্জা অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে জানান যে, তাঁকে বারবার ঠোঁটে ‘ফিলার’ ব্যবহার করা কিংবা ‘ব্রেস্ট অগমেন্টেশন’ বা স্তনের আকার বড় করার কুরুচিপূর্ণ পরামর্শ দেওয়া হতো। তবে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর ও বিস্ময়কর বিষয়টি হলো— এই ধরনের অশালীন ও বিচিত্র পরামর্শগুলো কখনোই কোনো নারী সহকর্মীর কাছ থেকে আসেনি; বরং প্রতিটি মন্তব্যই ছিল কোনো না কোনো প্রভাবশালী পুরুষের। দিয়া বলেন, “এটি অত্যন্ত ভয়ঙ্কর একটি বিষয়। ইন্ডাস্ট্রির এই চালিকাশক্তি মূলত পুরুষরাই নিয়ন্ত্রণ করেন। তাঁদের তৈরি করা এই ব্যবস্থার মূল ভিত্তিই হলো মানুষের বিশেষ করে নারীদের মনে এক ধরনের অনিরাপত্তা ও ভয়ের ‘ভাইরাস’ ঢুকিয়ে দেওয়া।”
এই প্রতিভাময়ী অভিনেত্রী পুরো প্রক্রিয়াটিকে একটি সুপরিকল্পিত ‘ফাঁদ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, যখন কোনো নারী নিজের সহজাত শারীরিক বৈশিষ্ট্যকে অস্বীকার করতে শুরু করেন এবং ভাবেন যে কৃত্রিম সার্জারির মাধ্যমেই তাঁকে আরও সুন্দর হতে হবে, তখন তিনি মূলত নিজের প্রকৃত সত্তাকেই বিসর্জন দেন। দিয়া মির্জা আক্ষেপ করে বলেন, ২০ বছর বয়স হওয়ার আগেই যখন তিনি দুটি বড় ‘বিউটি টাইটেল’ বা আন্তর্জাতিক সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মুকুট জয় করেছিলেন, তখনও তাঁকে ইন্ডাস্ট্রির একশ্রেণির পরিচালক, প্রযোজক কিংবা তথাকথিত সৌন্দর্য ‘বিশেষজ্ঞ’দের কাছ থেকে চেহারা বদলানোর কথা শুনতে হতো।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সময়ে অনেক নারীই অজান্তে এই কৃত্রিম সৌন্দর্যের নেশায় মত্ত হয়ে পড়ছেন, যা ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। পুরুষের তৈরি এই ‘বিউটি স্ট্যান্ডার্ড’ বা সৌন্দর্যের ছাঁচে নিজেকে খাপ খাওয়াতে গিয়ে নারীরা যে দীর্ঘমেয়াদী মানসিক ও শারীরিক ক্ষতির সম্মুখীন হন, দিয়া মির্জা নিজের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে সেই সত্যটিই ফুটিয়ে তুলেছেন। তাঁর এই অকপট স্বীকারোক্তি এখন ‘সোশ্যাল মিডিয়া’ ও বলিউডের অন্দরমহলে নতুন করে তর্কের জন্ম দিয়েছে, যা বিনোদন দুনিয়ায় নারীর মর্যাদা ও স্বকীয়তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলে দিল। দিয়ার এই লড়াই মূলত সেই সব নারীদের জন্য এক বলিষ্ঠ বার্তা, যারা প্রতিনিয়ত তথাকথিত আধুনিক সৌন্দর্যের মাপকাঠিতে নিজেদের বিচার করে থাকেন।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।