১৭ বছর পর নতুন সূর্য: তারেক রহমানের নেতৃত্বে শপথ নিচ্ছেন বিএনপির ২১২ সাংসদ

১৭ বছর পর নতুন সূর্য: তারেক রহমানের নেতৃত্বে শপথ নিচ্ছেন বিএনপির ২১২ সাংসদ

দীর্ঘ ১৭ বছরের রাজনৈতিক নির্বাসন আর দেড় দশকের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতিতে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে জয়ী জনপ্রতিনিধিরা আজ আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করছেন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় এক উৎসবমুখর অথচ গাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে।


সকাল ৯টা বাজার পরপরই নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের বহনকারী গাড়িগুলো একে একে সংসদ ভবনের মূল ফটক দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতে শুরু করে। বিশেষ করে বিএনপির সংসদ সদস্যদের আগমনে সংসদ প্রাঙ্গণ এখন মুখরিত। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আজ সকাল ১০টায় সংসদ ভবনের নির্দিষ্ট শপথ কক্ষে এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন।


সংসদীয় প্রথা ও দীর্ঘদিনের রেওয়াজ অনুযায়ী, নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী দল হিসেবে শুরুতেই শপথ নেবেন বিএনপির সংসদ সদস্যরা। উল্লেখ্য, এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটগতভাবে ২১২টি আসনে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করেছে বিএনপি। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাত ধরেই দীর্ঘ ১৫ বছর পর দেশের শাসনভার গ্রহণ করতে যাচ্ছে দলটি। ১৭ বছর প্রবাস জীবনে থাকার পর দেশে ফিরে সরাসরি নির্বাচনী লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিয়ে এই বিশাল জয় ছিনিয়ে এনেছেন তিনি।


বিএনপির জন্য এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত আবেগঘন এবং তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ টানা তিনটি সংসদ অর্থাৎ দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে দলটির কোনো প্রতিনিধি সংসদে ছিলেন না। এর আগে ২০১৪ এবং ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচন বর্জন করেছিল দলটি। ২০১৮ সালের নির্বাচনে তারা অংশ নিলেও ভোটের দিন দুপুরে নজিরবিহীন কারচুপির অভিযোগ এনে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছিল। ফলে এবারের এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানটি বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বিশাল মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


এদিকে, এই ঐতিহাসিক শপথ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সংসদ ভবন ও এর আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তার এক কঠোর বেষ্টনী গড়ে তোলা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। সংসদের প্রতিটি গেট এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বসানো হয়েছে অতিরিক্ত নিরাপত্তা চৌকি। সবকিছু ঠিক থাকলে শপথ গ্রহণের পরপরই নতুন সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে।


ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।