জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে আগামী ১৯ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জুলাই বিপ্লববিষয়ক দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলন (আইসিজেআর-২, ২০২৬)। দিনব্যাপী এই আয়োজনের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে- ‘জুলাই বিপ্লব ২০২৪-এর লিগ্যাসি: জবাবদিহি, সংস্কার ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ’। শুক্রবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আয়োজকরা এই বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশ-বিদেশের খ্যাতিমান গবেষক, শিক্ষক, নীতিনির্ধারক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা এই মঞ্চে সমবেত হবেন। অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অধিকারভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় সংস্কারের বিভিন্ন দিক নিয়ে এখানে বিস্তারিত মতবিনিময় হবে। এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনটি যৌথভাবে আয়োজন করেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিসার্চ অ্যান্ড ইন্টিগ্রেটেড থট (আরআইটি), ডাকসু, ইয়ুথ ফর বেটার ফিউচার সোসাইটি, কানাডার ইউনিভার্সিটি অব রেজিনা, আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম এবং সিঙ্গাপুরের নানিয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির স্কুল অব সোশ্যাল সায়েন্সেস।
সম্মেলনটিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকছেন অধ্যাপক আ ফ ম খালিদ হোসাইন, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের সিরিয়াবিষয়ক প্রতিনিধি হুমা খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান মঈনুল ইসলাম চৌধুরী। উদ্বোধনী পর্বে জুলাই বিপ্লবের শহীদ জাবির ইব্রাহিমের মা ও সংসদ সদস্য রোকেয়া বেগমের অংশগ্রহণ পুরো আয়োজনে বিশেষ তাৎপর্য যোগ করবে।
আয়োজকরা জানান, সম্মেলনে পাঁচটিরও বেশি প্যানেল আলোচনায় ১৫ জনের অধিক বিশেষজ্ঞ অংশ নেবেন। নানিয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও কাতারের হামাদ বিন খলিফা ইউনিভার্সিটির প্রতিনিধিরা এখানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন। সম্মেলনের মূল প্রবন্ধ আলোচনার পাশাপাশি বাছাই করা ৮০টি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হবে। এছাড়া বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের নিয়ে একটি বিশেষ প্রোটোকল সেশনও অনুষ্ঠিত হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের চেয়ারম্যান ও সম্মেলনের আহ্বায়ক অধ্যাপক এইচ এম মোশারফ হোসাইন উদ্বোধনী বক্তব্য রাখবেন। আয়োজকরা আশা করছেন, বিপ্লবের অপূর্ণ কাজ, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং মানবাধিকার সুরক্ষা নিয়ে এই সম্মেলন একটি শক্তিশালী ও গবেষণাভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। সম্মেলনটি সফল করতে শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।