‘জোচ্চুরি’ বন্ধের ঘোষণা দিয়ে ২১ দিনের কাজের হিসাব দিলেন এমপি হাসনাত আবদুল্লাহ

কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ তার নির্বাচনী এলাকায় সব ধরনের ‘জোচ্চুরি’ বা জালিয়াতি বন্ধ করে পরিপূর্ণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার এক বলিষ্ঠ ঘোষণা দিয়েছেন। সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ২১ দিনের মাথায় ফেসবুক লাইভে এসে তিনি জনগণের সামনে তার কাজের খতিয়ান তুলে ধরেন এবং দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন, “আমার জায়গা থেকে আমি শুধু স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করব, যাতে কোনো ধরনের জোচ্চুরি না হতে পারে এবং প্রতিটি সেবা যাতে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে যায়।”


এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দেবীদ্বারের সকল উন্নয়ন প্রকল্প, সরকারি বরাদ্দ ও কার্যক্রমের হালনাগাদ তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে ‘জবাবদিহিতা’ নামে একটি বিশেষ ফেসবুক পেজও চালু করেছেন তিনি।


গত মঙ্গলবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে সরাসরি লাইভে আসেন হাসনাত আবদুল্লাহ। সেখানে তিনি ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ গ্রহণের পর থেকে ১১ মার্চ পর্যন্ত তার গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ ও কাজের বিস্তারিত বর্ণনা দেন।


আলোচনার কেন্দ্রে ৩১২ কেজি খেজুরের বণ্টন


ফেসবুক লাইভে এমপি হাসনাত আবদুল্লাহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের কথা বললেও, বিশেষভাবে আলোচিত হচ্ছে ৩১২ কেজি সরকারি খেজুর বরাদ্দের পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব প্রদানের বিষয়টি। তার এই ক্ষুদ্র বিষয়ে স্বচ্ছতার উদ্যোগ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবং পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


লাইভে তিনি বলেন, “বলে রাখা ভালো, আজকে দেবীদ্বারে ৩৯টি বাক্সে মোট ৩১২ কেজি খেজুর এসেছে। প্রতিটি বাক্সে ৮ কেজি করে আছে। এগুলো সরকারি বরাদ্দ। খেজুরগুলো ১৫টি ইউনিয়নের মাদ্রাসাগুলোতে ভাগ করে দেওয়া হবে। প্রত্যেক মাদ্রাসা হয়তো তিন কেজি করে পেতে পারে।”


বরাদ্দ বণ্টনে অনিয়ম রুখতে নিজের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “কিছুদিন পর কোরবানি সামনে রেখে উট ও দুম্বার মাংস আসবে। আমরা চাই, প্রতিটি পয়সা পর্যন্ত যেন জনগণ বুঝে পায়। কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা চেয়ারম্যান-মেম্বার যেন নিজেদের মতো করে কিছু করতে না পারেন।”


একই সঙ্গে, দেবীদ্বারের ১৫টি ইউনিয়ন পরিষদের সচিবদের প্রতি তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, শিগগিরই তাদের ‘আমলনামা’ নিয়ে বসা হবে। তার ভাষায়, “এই সচিবদের মধ্যে দুর্নীতির আখড়া আছে। আপনাদের চেষ্টা-পরিশ্রমকে সম্মান জানাই, একই সঙ্গে আপনাদের বিরুদ্ধে আসা অভিযোগগুলো না থাকুক, সেটাও আমরা চাই। এক পয়সাও যেন কারসাজি না হয়।” দুর্নীতি ও অনিয়মে জড়িত পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না বলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন।


২১ দিনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের খতিয়ান


সংসদ সদস্য হিসেবে তার প্রাথমিক ২১ দিনের কাজের বর্ণনা দিতে গিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পরই তিনি আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় কমিটিসহ প্রশাসনের প্রতিটি শাখার সঙ্গে ধারাবাহিক সভা করে কাজের গতি নির্ধারণ করেছেন।


তিনি উল্লেখ করেন, দেবীদ্বারের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এখানকার রাস্তাঘাট। এই সমস্যা সমাধানে বর্তমানে সড়ক ও জনপথ, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) অধীনে মোট আটটি প্রকল্পের মাধ্যমে সড়ক উন্নয়নের কাজ চলমান রয়েছে।


শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে দেবীদ্বারে বর্তমানে ৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নির্মাণকাজ চলছে বলে তিনি জানান। এছাড়া, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় তার সংসদীয় আসনের একটি পৌরসভার জন্য ৩ হাজার ৮১টি এবং ১৫টি ইউনিয়নের জন্য ২০ হাজার ৬৩৫টি ভিজিএফ কার্ড বরাদ্দ এসেছে, যার আওতায় প্রতিটি কার্ডধারী পরিবার ১০ কেজি করে চাল পাবে। তিনি এই চাল বিতরণের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের নামও লাইভে প্রকাশ করেন এবং প্রকৃত প্রান্তিক মানুষই যাতে এই কার্ড পায়, তা নিশ্চিত করার জন্য জোর আহ্বান জানান।


গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কারে ‘কাজের বিনিময়ে খাদ্য’ (কাবিখা) প্রকল্পের আওতায় কুমিল্লা-৪ আসনে ১০টি প্রকল্পের জন্য ৫১ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ এসেছে বলেও জানান তিনি। এর বাইরে দুটি গুরুত্বপূর্ণ খাল খনন এবং এলাকার যুবক ও নারী উদ্যোক্তাদের স্বাবলম্বী করতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণের উদ্যোগের কথাও তিনি তার লাইভ প্রতিবেদনে তুলে ধরেন।


ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।