ব্রাজিলের ঘরোয়া ফুটবলের মর্যাদাপূর্ণ আসর ‘সিরি আ’ লিগে এক চরম তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলেন ফুটবল জাদুকর নেইমার জুনিয়র। নিজের শৈশবের ক্লাব সান্তোসের জার্সিতে মাঠে নেমে যেমন হারের স্বাদ পেলেন, তেমনি নিজ দলের সমর্থকদের কাছ থেকেই শুনতে হলো তীব্র বিদ্রূপ ও দুয়ো। ফ্লুমিনেন্সের বিপক্ষে টানটান উত্তেজনার এক ম্যাচে শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় ৩-২ ব্যবধানে হেরে মাঠ ছাড়তে হয়েছে নেইমারের নেতৃত্বাধীন সান্তোসকে।
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। ঘরের মাঠে নেইমারের ক্ষিপ্রতা আর কৌশলী ফুটবল শুরু থেকেই ফ্লুমিনেন্সের ‘ডিফেন্স’ বা রক্ষণভাগকে চাপে রেখেছিল। নেইমারের অধীনে আক্রমণভাগের দুর্দান্ত সমন্বয়ে ম্যাচে দু’বার লিড বা আধিপত্য বিস্তার করেছিল সান্তোস। এই অগ্রযাত্রায় তুরুপের তাস হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন গাব্রিয়েল বারবোসা। দলের প্রথম গোলটিতে তিনি অসাধারণ এক ‘অ্যাসিস্ট’ করার পাশাপাশি দ্বিতীয় গোলটি নিজেই করেন। সে সময় মনে হচ্ছিল নেইমারের দল হয়তো সহজ জয় নিয়েই মাঠ ছাড়বে।
তবে গল্পের মোড় ঘুরে যায় দ্বিতীয় হাফে। অবিশ্বাস্য লড়াই করে দু’বার পিছিয়ে পড়েও সমতায় ফেরে ফ্লুমিনেন্স। ম্যাচের ৮৬তম মিনিটে এক ঝোড়ো আক্রমণে জয়সূচক গোলটি করে সান্তোস সমর্থকদের স্তব্ধ করে দেয় তারা। এই গোলটির পর আর ম্যাচে ফেরার সুযোগ পায়নি স্বাগতিকরা।
ম্যাচ শেষে মাঠের পরিস্থিতির চেয়েও গ্যালারির চিত্র ছিল বেশি আলোচিত। দলের এমন হার এবং পুরো ম্যাচে ব্যক্তিগতভাবে কোনো গোল করতে না পারায় সমর্থকদের সব ক্ষোভ গিয়ে পড়ে অধিনায়ক নেইমারের ওপর। প্রিয় ক্লাবে ফেরার পর যাঁকে ঘিরে ভক্তদের উন্মাদনা ছিল আকাশচুম্বী, সেই তাঁকেই মাঠ ছাড়ার সময় গ্যালারি থেকে সমস্বরে ‘দুয়ো’ (Booing) দিতে থাকে দর্শকরা।
মাঠের পারফরম্যান্সে নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করলেও দলের এমন বিপর্যয় এবং সমর্থকদের অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণে দৃশ্যত বিধ্বস্ত ও হতাশ দেখা গেছে ব্রাজিলিয়ান এই মহাতারকাকে। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, সান্তোসের মতো ক্লাবে যেখানে নেইমারকে ‘আইকন’ বা কিংবদন্তি হিসেবে দেখা হয়, সেখানে সমর্থকদের এমন রূঢ় প্রতিক্রিয়া ক্লাবটির অভ্যন্তরীণ অস্থিরতাকেই সামনে নিয়ে এল।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।