ইউরোপীয় ফুটবলের সবচেয়ে জমকালো আসর ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের বর্তমান মৌসুম এখন তার অন্তিম লগ্নে। মাঠের লড়াই যতটা না ফুটবলীয় কৌশলের, তার চেয়েও বেশি হয়ে দাঁড়িয়েছে স্নায়ুচাপের এক চরম পরীক্ষা। গতকাল রাতে ইতিহাদ স্টেডিয়ামে আর্সেনাল ও ম্যানচেস্টার সিটির মধ্যকার হাই-ভোল্টেজ ম্যাচটি কেবল একটি জয়-পরাজয়ের গল্প ছিল না; বরং এটি ছিল শিরোপা নির্ধারণী এক জটিল মহাকাব্যের ভূমিকা। যদিও সিটি ২-১ ব্যবধানে গানার্সদের পরাজিত করে ব্যবধান কমিয়ে এনেছে, তবে ট্রফিটি কার শোকেসে উঠবে তা নিয়ে এখনো রয়েছে রুদ্ধশ্বাস অনিশ্চয়তা। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এবারের প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন নির্ধারিত হতে পারে ইতিহাসের অন্যতম ক্ষুদ্রতম ব্যবধানে।
পয়েন্ট টেবিলের বর্তমান চিত্র বলছে, আর্সেনাল ৩৩ ম্যাচে ৭০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থান ধরে রাখলেও ম্যানচেস্টার সিটির নিশ্বাস এখন তাদের ঘাড়ে। এক ম্যাচ কম খেলে সিটির সংগ্রহ ৬৭ পয়েন্ট। অর্থাৎ, পেপ গার্দিওলার দল যদি তাদের হাতে থাকা পরবর্তী ম্যাচে বার্নলিকে পরাজিত করতে পারে, তবে দুই দলের পয়েন্টই দাঁড়াবে সমান ৭০। লিগের বাকি পথটুকু যদি দুই দলই জয়ের ধারায় থাকে, তবে মৌসুম শেষে উভয়ের পয়েন্ট দাঁড়াবে ৮৫। এমন এক ‘ডেডলক’ বা অচলাবস্থার সৃষ্টি হলে চ্যাম্পিয়ন নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষকে বেশ কিছু চুলচেরা বিশ্লেষণের আশ্রয় নিতে হবে।
লিগের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, দুই দলের পয়েন্ট সমান হলে প্রথমেই বিবেচনায় আসবে ‘গোল ব্যবধান’ (Goal Difference)। বর্তমান পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, আর্সেনাল ৬৩টি গোল করে হজম করেছে ২৬টি, ফলে তাদের ব্যবধান +৩৭। অন্যদিকে, ম্যানচেস্টার সিটি ৬৫টি গোল করে হজম করেছে ২৯টি, যার ফলে তাদের গোল ব্যবধান দাঁড়িয়েছে +৩৬। এই সামান্য ১ গোলের ব্যবধানই নির্দেশ করছে যে, মৌসুমের শেষ বাঁশিতে পয়েন্টের পাশাপাশি গোল ব্যবধানও সমান হয়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
যদি গোল ব্যবধানেও কোনো ফয়সালা না হয়, তবে দ্বিতীয় ধাপে দেখা হবে দুই দলের মোট করা গোলসংখ্যা (Total Goals Scored)। সেখানেও যদি সমতা বিরাজ করে, তবে আসবে ‘হেড টু হেড’ বা মুখোমুখি লড়াইয়ের হিসাব। এই একটি জায়গাতেই আর্সেনালের চেয়ে যোজন যোজন এগিয়ে রয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। মৌসুমের দুই লেগের লড়াইয়ে সিটি জিতেছে একটিতে এবং অন্যটি হয়েছে ড্র। ফলে মুখোমুখি লড়াই থেকে সিটির সংগ্রহ ৪ পয়েন্ট এবং আর্সেনালের মাত্র ১। অর্থাৎ, লড়াই যদি মুখোমুখি ফয়সালায় গড়ায়, তবে আর্সেনালকে হতাশ করে ট্রফি উঠবে ব্লু-মুনদের হাতেই।
উল্লেখ্য যে, স্প্যানিশ লা লিগা কিংবা ইতালিয়ান সিরি-আ তে শুরু থেকেই মুখোমুখি লড়াইকে প্রাধান্য দেওয়া হলেও প্রিমিয়ার লিগে গোল ব্যবধানকেই প্রথম মানদণ্ড হিসেবে ধরা হয়। প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে এমন রোমাঞ্চকর সমাপ্তি সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল ২০১১-১২ মৌসুমে। সেবার ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাথে পয়েন্টে সমান থাকলেও সার্জিও আগুয়েরোর সেই ঐতিহাসিক ইনজুরি টাইম গোলের কল্যাণে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে শিরোপা জয় করেছিল ম্যানচেস্টার সিটি। ফুটবল বিশ্বের কোটি কোটি ভক্ত এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন—২০২৬ সালের মে মাসে কি আবারও সেই ‘আগুয়েরো মোমেন্ট’-এর পুনরাবৃত্তি ঘটবে না কি গানার্সরা সব সমীকরণ ছাপিয়ে বিজয় উল্লাস করবে।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।