‘কোনো অপশক্তির কাছে মাথানত নয়’: মজলুমের পাশে দাঁড়াতে নেতাকর্মীদের কঠোর নির্দেশ ডা. শফিকের

‘কোনো অপশক্তির কাছে মাথানত নয়’: মজলুমের পাশে দাঁড়াতে নেতাকর্মীদের কঠোর নির্দেশ ডা. শফিকের

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শুরু হওয়া রাজনৈতিক সহিংসতা, হামলা ও অরাজকতার কঠোর সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। আজ রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজের মাধ্যমে দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় তিনি দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং অন্যায় ও অপশক্তির বিরুদ্ধে যেকোনো মূল্যে রুখে দাঁড়ানোর জোরালো ঘোষণা দেন।


ডা. শফিকুর রহমান তাঁর পোস্টে অত্যন্ত বেদনার সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাধারণ মানুষের ওপর একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের উশৃঙ্খল কর্মীরা অতর্কিত হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মতো নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে ১১ দলীয় জোটের প্রতীকে ভোটাধিকার প্রয়োগ করার জেরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নারীদের শ্লীলতাহানি করার মতো অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক ও মমান্তিক খবর তাঁর কাছে পৌঁছেছে। এমন অমানবিক আচরণের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করে তিনি বলেন, "ন্যায় ও সত্যের ওপর আমরা ইনশাআল্লাহ সবসময় অটল থাকব। কোনো ধরনের অপশক্তির রক্তচক্ষুর কাছে আমরা কখনোই মাথানত করব না।"


জামায়াত আমির তাঁর সংগঠনের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের সাধারণ জনগণকে মজলুম বা নিপীড়িত মানুষের পাশে পাহাড়ের মতো শক্ত হয়ে দাঁড়ানোর উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি নির্দেশ দিয়ে বলেন, যেখানেই এ ধরনের আঘাত আসবে, সেখানেই জনগণকে সাথে নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ ও তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। ডা. শফিকুর রহমান তাঁর বার্তায় আধ্যাত্মিক ও দেশপ্রেমের মেলবন্ধন ঘটিয়ে বলেন, আর্তমানবতার সেবা করা এবং নিপীড়িত মানুষের পাশে থাকা কেবল রাজনীতির অংশ নয়; এটি মহান আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা ও দেশপ্রেমের এক অনন্য দাবি।


তিনি আরও স্পষ্ট করে দেন যে, এই পবিত্র অঙ্গীকার পূরণে কোনো ধরনের শিথিলতা, ভয় বা দুর্বলতা প্রদর্শনের বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই। নির্বাচন পরবর্তী এই সংবেদনশীল সময়ে জামায়াত আমিরের এই দৃঢ় অবস্থান ও ‘অ্যাকশন’ নেওয়ার বার্তা রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তাঁর এই ঘোষণা মূলত তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের আত্মবিশ্বাস জোগানোর পাশাপাশি হামলাকারীদের জন্য একটি কঠোর হুশিয়ারি হিসেবে দেখা হচ্ছে। পরিশেষে তিনি মহান আল্লাহর দরবারে সাহায্য ও শক্তি প্রার্থনা করে তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।


ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।