বিশ্ব চলচ্চিত্রের সবচাইতে মর্যাদাপূর্ণ ও গ্ল্যামারাস আসর ‘কান চলচ্চিত্র উৎসব’-এর ৭৯তম সংস্করণের পর্দা নামল এক ঐতিহাসিক অর্জনের মধ্য দিয়ে। ফ্রান্সের দক্ষিণ উপকূলীয় শহর কানের ঐতিহাসিক ‘গ্র্যান্ড থিয়েটার লুমিয়েরে’ আয়োজিত জমকালো সমাপনী অনুষ্ঠানে এ বছরের শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রের পুরস্কার ‘পালম ডি'অর’ (Palme d'Or) বা ‘স্বর্ণপাম’ ছিনিয়ে নিয়েছে রোমানিয়ান চলচ্চিত্র ‘ফিয়র্ড’ (Fjord)। বিশ্ববরেণ্য পরিচালক ক্রিস্টিয়ান মুঙ্গিউয়ের নিপুণ পরিচালনায় নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি কান সৈকতে উপস্থিত সমালোচক ও দর্শকদের প্রশংসা কুড়ানোর পাশাপাশি বিশ্ব চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছে।
শনিবার (২৩ মে) রাতে অনুষ্ঠিত এই সমাপনী আয়োজনে যখন মুঙ্গিউয়ের নাম ঘোষণা করা হয়, তখন পুরো প্রেক্ষাগৃহ করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে। ‘ফিয়র্ড’ চলচ্চিত্রটির মূল উপজীব্য হলো নরওয়েতে বসবাসকারী একটি অভিবাসী পরিবারের যাপিত জীবনের নিদারুণ বাস্তবতা, সাংস্কৃতিক সংঘাত এবং টিকে থাকার লড়াই। আধুনিক সমাজব্যবস্থায় পরিচয় সংকটে থাকা মানুষের মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন অত্যন্ত মুন্সিয়ানার সাথে সেলুলয়েডে ফুটিয়ে তুলেছেন নির্মাতা। এই চলচ্চিত্রে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করে দর্শক হৃদয়ে দাগ কেটেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা সেবাস্টিয়ান স্ট্যান এবং শক্তিমান অভিনেত্রী রেনেট রেইনসভে।
পরিচালক ক্রিস্টিয়ান মুঙ্গিউয়ের ক্যারিয়ারে এটি দ্বিতীয় ‘পালম ডি'অর’ জয়। এর আগে ২০০৭ সালে তাঁর সাড়া জাগানো ছবি ‘ফোর মান্থস, থ্রি উইকস অ্যান্ড টু ডেইজ’-এর জন্য তিনি প্রথমবার এই স্বর্ণালি মুকুটটি নিজের করে নিয়েছিলেন। এবারের জয়ে তিনি কানের ইতিহাসের সেই বিরল পরিচালকদের তালিকায় নিজের নাম লেখালেন, যাঁরা একাধিকবার এই শীর্ষ পুরস্কার অর্জন করেছেন। পুরস্কার গ্রহণের পর এক আবেগঘন ও বলিষ্ঠ ভাষণে মুঙ্গিউ বর্তমান বিশ্বের অস্থিরতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমাদের বর্তমান সমাজ ক্রমশ বিভক্ত ও চরমপন্থী হয়ে উঠছে। এই চলচ্চিত্রটি মূলত যেকোনো ধরনের মৌলবাদ ও গোঁড়ামির বিরুদ্ধে এক শৈল্পিক অঙ্গীকার। আমরা এমন কিছু স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে কথা বলার ঝুঁকি নিয়েছি, যা সমাজের অনেকেই জানেন কিন্তু উচ্চকণ্ঠে বলার সাহস পান না।”
উল্লেখ্য, এবারের প্রতিযোগিতায় মূল আসরে শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছিল বিশ্বের সেরা সব নির্মাতাদের মোট ২২টি চলচ্চিত্র। আমেরিকার বহুল আলোচিত ‘দ্য ম্যান আই লাভ’ এবং ‘পেপার টাইগার’-এর মতো ছবিগুলোকে পেছনে ফেলে ‘ফিয়র্ড’-এর এই জয় রোমানিয়ান সিনেমা তথা বিশ্ব চলচ্চিত্রের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখা হচ্ছে। উৎসবের সমাপনী দিনে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা চলচ্চিত্র বোদ্ধারা একমত হয়েছেন যে, মুঙ্গিউয়ের এই সৃষ্টি কেবল একটি সিনেমা নয়, বরং সমকালীন বিশ্বের এক রূঢ় সত্যের দলিল।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।