জামায়াত ও এনসিপির পর এবার গন্তব্য পল্টন: ইসলামী আন্দোলনের আমিরের সঙ্গে বৈঠকে তারেক রহমান

জামায়াত ও এনসিপির পর এবার গন্তব্য পল্টন: ইসলামী আন্দোলনের আমিরের সঙ্গে বৈঠকে তারেক রহমান

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সৌজন্য সাক্ষাতের যে নতুন ধারা শুরু হয়েছে, তার ধারাবাহিকতায় এবার ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমিরের সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় তিনি সশরীরে উপস্থিত হয়ে চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমের সঙ্গে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।


বিএনপির উচ্চপর্যায়ের সূত্রমতে, আজ সন্ধ্যা ৬টায় রাজধানীর পুরানা পল্টনে অবস্থিত নোয়াখালী টাওয়ারে ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বিএনপির মিডিয়া সেলের নির্ভরযোগ্য সদস্য শায়রুল কবির খান সংবাদমাধ্যমকে এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর বিভিন্ন দলের সাথে তারেক রহমানের এই সাক্ষাৎগুলো ভবিষ্যতের নতুন কোনো রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।


এর আগে গতকাল রোববার সন্ধ্যায়ও তারেক রহমান বেশ ব্যস্ত সময় পার করেছেন। তিনি রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে গিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং এনসিপি (ন্যাশনালিস্ট কনভেনশন পার্টি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাসভবনে গিয়ে তাদের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করেন। আজ ইসলামী আন্দোলনের শীর্ষ নেতার সঙ্গে বৈঠকটি সেই ধারাবাহিকতারই একটি অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।


উল্লেখ্য যে, সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সারা দেশের ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৫৭টিতে প্রার্থী দিয়ে নিজেদের শক্তির জানান দিয়েছিল। তবে বেশ কিছু আসনে বিএনপির প্রার্থীদের সঙ্গে তাদের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে বরিশাল-৫ আসনের ফলাফল ছিল বেশ আলোচিত। সেখানে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার ১ লাখ ৩১ হাজার ৪৩১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে হাতপাখা প্রতীকের মুফতি ফয়জুল করীম ৯৩ হাজার ৫২৮ ভোট পেয়ে চমক দেখালেও শেষ পর্যন্ত জয়ের বন্দরে পৌঁছাতে পারেননি।


একইভাবে বরিশাল-৬ আসনেও ধানের শীষের প্রার্থীর বিপরীতে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে ব্যর্থ হয় ইসলামী আন্দোলন। এই আসনের ১১৩টি কেন্দ্রের চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা গেছে, বরিশাল জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও ধানের শীষের প্রার্থী আবুল হোসেন খান ৮১ হাজার ৮৭ ভোট পেয়ে জয়ী হন। এই আসনে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিলেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ মাহমুদুন্নবি, যার প্রাপ্ত ভোট ৫৪ হাজার ৫৩৩। অন্যদিকে, হাতপাখা প্রতীকের মুফতি ফয়জুল করীম এখানে মাত্র ২৮ হাজার ৮২৩ ভোট পান। মাঠপর্যায়ের ভোটার ও সমর্থকদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, এই আসনে ইসলামী আন্দোলনের ফলাফল তাদের প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম হয়েছে।


আজকের এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে নির্বাচনী পরবর্তী পরিবেশ এবং দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি দুই দলের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।