ঢাকা: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দামামা বাজছে দেশজুড়ে। প্রচারণার শেষলগ্নে এসে সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দিনভর ব্যস্ত সময় পার করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে একের পর এক জনসভা শেষ করে গভীর রাতে তিনি তাঁর পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মাতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন ও জিয়ারত করেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল ১১টা থেকে শুরু করে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঢাকা মহানগরীর দক্ষিণ অংশের আটটি কৌশলগত স্থানে নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেন তারেক রহমান। তিনি তাঁর নিজস্ব নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১৭ (বনানী) আসন ছাড়াও ঢাকা-১০ (কলাবাগান), ঢাকা-৮ (পীরজঙ্গী মাজার), ঢাকা-৯ (মান্ডা), ঢাকা-৫ (যাত্রাবাড়ী), ঢাকা-৪ (জুরাইন) এবং ঢাকা-৬ (ধূপখোলা) আসনের ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যান। সর্বশেষ ঢাকা-৭ (লালবাগ) আসনের লালবাগ কেল্লার ঐতিহাসিক জনসভা শেষ করে রাত যখন ১১টার কাছাকাছি, তখন তিনি মা-বাবার স্মৃতিবিজড়িত কবর জিয়ারতে পৌঁছান। সেখানে তিনি পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ শেষে দীর্ঘ সময় ধরে মোনাজাত করেন। এ সময় তাঁর পাশে থাকা হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে এক অন্যরকম আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
জনসভাগুলোতে তারেক রহমান বিএনপির নির্বাচনী ‘ইশতেহার’ বিশদভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরেন। তিনি আগামী দিনের নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের রোডম্যাপ বর্ণনা করে দেশবাসীর কাছে ভোট ও সমর্থন প্রার্থনা করেন। এর আগে সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও বাংলাদেশ বেতারে জাতির উদ্দেশে বিশেষ নির্বাচনী ভাষণ দেন তিনি। ভাষণে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে ‘জনগণের মালিকানা ফিরে পাওয়ার ঐতিহাসিক সুযোগ’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানান।
বিটিভি’র ভাষণে তারেক রহমান ভবিষ্যৎ সরকার গঠনের রূপরেখা তুলে ধরে বেশ কিছু বৈপ্লবিক প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি জানান, ক্ষমতায় গেলে আগামী ৫ বছরে এক কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। পাশাপাশি বেকার ‘গ্র্যাজুয়েট’দের জন্য বিশেষ ভাতা প্রদান এবং প্রতিটি অভাবী পরিবারের জন্য ‘ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার কার্ড’ চালুর অঙ্গীকার করেন তিনি। এছাড়াও তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ, মেধার ভিত্তিতে সরকারি নিয়োগ এবং চাকুরিজীবীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে নতুন ‘পে-স্কেল’ বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়ে ভোটারদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করেন। ১২ ফেব্রুয়ারির চূড়ান্ত লড়াইয়ের আগে তারেক রহমানের এমন বহুমুখী কর্মতৎপরতা রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।