‘মেজরিটির বড়াই করলে ফের গণ-অভ্যুত্থান’: সরকারকে চরম হুঁশিয়ারি হাসনাত আবদুল্লাহর

 রাষ্ট্র সংস্কারের মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়ে যদি ক্ষমতাসীনরা কেবল সংখ্যাধিক্যের জোরে পুরোনো ব্যবস্থাকেই টিকিয়ে রাখতে চায়, তবে দেশে চব্বিশের জুলাইয়ের মতো আরও একটি গণ-অভ্যুত্থান অনিবার্য হয়ে পড়বে। আজ সোমবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিডিবিএল ভবনে আয়োজিত এক নাগরিক সংলাপে অংশ নিয়ে এমন কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কুমিল্লা-৪ আসনের ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ।


‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা-সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিল ও গুম প্রতিরোধ/প্রতিকার অধ্যাদেশ স্থগিত: সুশাসন ও মানবাধিকারের অগ্রযাত্রার প্রতি হুমকি’ শীর্ষক এই সংলাপের আয়োজন করে ‘ভয়েস ফর রিফর্ম’। সংলাপে হাসনাত আবদুল্লাহ জুলাই অভ্যুত্থানের মূল স্পিরিট তুলে ধরে বলেন, “চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি পরিবর্তনের জন্য হয়নি, বরং এটি ছিল ঘুণে ধরা রাষ্ট্রকাঠামোর আমূল পরিবর্তনের লড়াই। যদি পুরোনো সিস্টেম বা পদ্ধতিগুলো অক্ষুণ্ণ রাখা হয়, তবে যেকোনো ব্যক্তিই পরবর্তীতে ‘হাসিনা’ হয়ে উঠতে পারেন। কারণ, হাসিনা কোনো একক ব্যক্তির নাম নয়, বরং এটি অনেকগুলো ফ্যাসিবাদী আইডিয়া বা চিন্তার এক ভয়ংকর সমষ্টি।”


সরকারের বর্তমান কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, মানুষ এমন একটি ইনক্লুসিভ রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন দেখেছিল যেখানে কাউকে দিনের আলোয় বা রাতের অন্ধকারে বাসা থেকে তুলে নিয়ে চিরতরে ‘হাওয়া’ করে দেওয়া হবে না। গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের আর্তনাদ স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, রাষ্ট্রকাঠামোর গুণগত পরিবর্তন না হলে দেশ আবারও অন্ধকারের গভীর গর্তে নিমজ্জিত হবে।


বিশেষ করে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে সরকারি নিয়ন্ত্রণমুক্ত রাখার ওপর জোর দিয়ে তিনি সতর্ক করেন যে, যদি মানবাধিকার কমিশনের অধ্যাদেশ যথাযথভাবে কার্যকর না করা হয়, তবে ২০০৯ সালের বিতর্কিত আইন অনুযায়ী তদন্তের পুরো নিয়ন্ত্রণ চলে যাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হাতে। এর ফলে জুলাই অভ্যুত্থানে পুলিশ হত্যার মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলোর তদন্তভার পুলিশের হাতেই ন্যস্ত থাকবে, যা চরমভাবে ন্যায়বিচারের পরিপন্থী এবং একটি স্বার্থের সংঘাত (Conflict of Interest) তৈরি করবে।


অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ও ভয়েস ফর রিফর্মের উদ্যোক্তা ফাহিম মাশরুর এবং আইনজীবী মানজুর-আল-মতিনও সংস্কারের ধীরগতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। মানজুর-আল-মতিন বলেন, “নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অপসারণের মতো রাজনৈতিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশগুলো দ্রুত পাস হলেও বিচার বিভাগের স্বাধীনতার মতো জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আমলাতান্ত্রিক জটিলতার বেড়াজালে আটকে রাখা হয়েছে।” তিনি সরকারকে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত বিচার বিভাগ স্বাধীন করার আহ্বান জানান।


উক্ত নাগরিক সংলাপে আরও বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, খ্যাতিমান আলোকচিত্রী শহিদুল আলম, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ হাসিবউদ্দীন হোসেন এবং আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমানসহ নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। বক্তারা সমস্বরে মনে করিয়ে দেন যে, জুলাইয়ের ম্যান্ডেট বাস্তবায়ন না হলে জনরোষ সামলানো কঠিন হয়ে পড়বে।


ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।