দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সৌজন্যবোধ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার এক বিরল এবং ইতিবাচক দৃশ্য প্রত্যক্ষ করল জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা। সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর সংসদ সচিবালয় কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। দুই শীর্ষ নেতার এই সংক্ষিপ্ত অথচ তাৎপর্যপূর্ণ বৈঠককে কেন্দ্র করে সংসদ পাড়ায় ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় আজ দুপুর ১২টায়। জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় তখন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সহধর্মিণী প্রয়াত দিলারা হাফিজের জানাজা অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। শোকাবহ এই পরিবেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান পাশাপাশি দাঁড়িয়ে জানাজায় অংশ নেন। জানাজার আনুষ্ঠানিকতা শেষে দুই নেতাকে একসঙ্গে হেঁটে সংসদ ভবনের দিকে অগ্রসর হতে দেখা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পথিমধ্যে বিরোধীদলীয় নেতা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার আগ্রহ প্রকাশ করলে প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে সংসদ সচিবালয়ে অবস্থিত নিজ কার্যালয়ে আমন্ত্রণ জানান।
অত্যন্ত আন্তরিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই সংক্ষিপ্ত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দুই নেতার আলাপচারিতা শেষে এক অভাবনীয় দৃশ্যের অবতারণা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কেবল ডা. শফিকুর রহমানকে বিদায় জানাননি, বরং প্রথা ভেঙে বিরোধীদলীয় নেতাকে তাঁর সংসদ সচিবালয় কার্যালয়ের পথ থেকে খানিকটা এগিয়ে দিয়ে আসেন। রাজনৈতিক শিষ্টাচারের এমন বহিঃপ্রকাশ সাধারণ মানুষের নজর কেড়েছে।
বৈঠকের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সেক্রেটারি আতিকুর রহমান রুমন সাংবাদিকদের জানান, “সাক্ষাৎটি ছিল অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ও সৌজন্যমূলক। দুই নেতা প্রায় ২০ মিনিট বিভিন্ন বিষয়ে আলাপ করেন। সংক্ষিপ্ত আলোচনা শেষে ডা. শফিকুর রহমান যখন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ত্যাগ করছিলেন, তখন প্রধানমন্ত্রী নিজে উঠে এসে তাঁকে খানিক পথ এগিয়ে দিয়ে আসেন।”
তিনি আরও যোগ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বরাবরই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এবং বিশিষ্টজনদের প্রতি যথাযথ সম্মান ও সৌজন্য প্রদর্শন করে আসছেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এবং পরবর্তীতে তাঁর দল ক্ষমতায় আসার পরও বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে তাঁর এমন মার্জিত আচরণ বারবার প্রশংসিত হয়েছে। আজকের এই বিশেষ শিষ্টাচারটি প্রধানমন্ত্রীর সেই সহজাত গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও উদার সৌজন্যেরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।