আসন্ন ভয়াবহ অর্থনৈতিক মন্দার প্রেক্ষাপটে জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বৃহত্তর ঐক্য প্রতিষ্ঠিত না হলে আসন্ন সংকট মোকাবিলা করে বর্তমান সরকারের টিকে থাকা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে।
পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরার পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। এসময় সমসাময়িক রাজনীতি, সংবিধান সংস্কার এবং নির্বাচন ইস্যু নিয়ে অত্যন্ত কঠোর ও সাহসী বক্তব্য প্রদান করেন এই নেতা। নাহিদ ইসলাম বলেন, “আগস্ট পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে পারস্পরিক দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে, তা দেশের জন্য অশনিসংকেত। আমরা শুরু থেকেই একটি নতুন সংবিধানের প্রয়োজনীয়তার কথা বলে আসছি, কিন্তু বিএনপি কেবল নির্বাচনের পেছনেই ছুটছে। দুই-তৃতীয়াংশ ভোট নিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখলেও তারা জনগণের সরাসরি ‘গণভোট’ মানতে নারাজ।”
বিএনপিকে ‘সংস্কার বিরোধী দল’ হিসেবে চিহ্নিত করে নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছর তারা নির্যাতিত হয়ে আন্দোলন করেছে ঠিকই, কিন্তু আস্থাহীনতার কারণে সাধারণ মানুষ তাদের সেই আন্দোলনে কাঙ্ক্ষিত সাড়া দেয়নি। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গুম প্রতিকারসহ যেসব গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ জারি করেছে, বিএনপি সেগুলো মানতে চায় না। এটি কেবল বিএনপির জন্য নয়, বরং বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও ডিজিএফআই-সহ সকল প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি কলঙ্কজনক অধ্যায় হয়ে থাকবে। এসব অধ্যাদেশ যদি শেষ পর্যন্ত বাতিল হয়ে যায়, তবে অপরাধীদের কেউই আর ছাড় পাবে না।”
দেশের বর্তমান শাসনব্যবস্থা ও সংসদীয় কার্যক্রম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, “জাতীয় সংসদে বর্তমানে এক ধরনের ‘নাটক’ মঞ্চস্থ হচ্ছে। সেখানে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দিচ্ছেন, অথচ সাংবিধানিক পরিবর্তনের এই প্রেক্ষাপটে বর্তমান রাষ্ট্রপতির ওই পদে থাকারই কোনো যৌক্তিকতা নেই। সংবিধানের মৌলিক পরিবর্তনের জন্য একটি শক্তিশালী ‘গণপরিষদ’ গঠন করা এখন সময়ের দাবি।”
তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুলকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “নির্বাচনী ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে বিএনপির হাতে দ্রুত ক্ষমতা বুঝিয়ে দিয়ে আপনাদের চলে গেলে হবে না। বরং বর্তমান অধ্যাদেশগুলোকে যথাযথ প্রক্রিয়ায় স্থায়ী আইনে রূপান্তর করতে হবে।”
বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ আরও উল্লেখ করেন যে, বায়তুল মোকাররম এলাকায় ১১ দলীয় জোটের চলমান বিক্ষোভ সমাবেশের প্রতি এনসিপির পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। তার মতে, নিয়ম-কানুনের বেড়াজালে ফেলে জাতিকে মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত করা হচ্ছে। আর এই কারণেই এনসিপি রাজপথে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, সংসদে সংস্কারের এসব অধ্যাদেশ বাস্তবায়িত না হলে বিএনপি ভবিষ্যতে স্বৈরাচারী রূপ ধারণ করবে, যা দেশের আপামর জনগণ কখনোই মেনে নেবে না।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া