গণভোটের মাধ্যমে প্রতিফলিত জনগণের রায়কে অস্বীকার করার মধ্য দিয়ে দেশে নতুন আঙ্গিকে ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সোমবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বিপ্লবী শপথ বাস্তবায়ন করব জুলাই সনদ’ শীর্ষক এই সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে শফিকুর রহমান অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলেন, “যেদিন থেকে গণভোটের গণরায়কে অবজ্ঞা করা হয়েছে, সেদিন থেকেই বাংলাদেশে নতুন করে ফ্যাসিবাদের যাত্রা শুরু হয়েছে। আমরা দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করছি, এই অশুভ যাত্রা আমরা কদম কদম থামিয়ে দেব ইনশা আল্লাহ। কোনোভাবেই এই ফ্যাসিবাদকে আর এগোতে দেওয়া হবে না।”
বিগত ৫৪ বছরের রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রেক্ষাপট টেনে জামায়াত আমির বলেন, দফায় দফায় যে ফ্যাসিবাদ জাতিকে শৃঙ্খলিত করে রেখেছিল, ২০২৪ সালের বিপ্লবীরা তাদের বঙ্গোপসাগর কিংবা নর্দমায় ছুড়ে ফেলে দিয়েছে। এখন কারা সেই নর্দমা থেকে ফ্যাসিবাদকে তুলে আনতে চাইছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তরুণ প্রজন্মের শক্তির প্রশংসা করে তিনি বলেন, “এই প্রজন্ম প্রমাণ করেছে, তারা জেগে উঠলে আন্দোলনের জন্য মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হয় না। তাদের বুক চিতিয়ে লড়াই করার সাহসই ফ্যাসিবাদীদের কলিজায় কাঁপন ধরিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।”
Referendum বা গণভোটের গুরুত্ব তুলে ধরে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “জনগণের রায়কে হাইজ্যাক করা হয়েছে, ডাকাতি করা হয়েছে। ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দিয়েছে, এটাই প্রমাণ যে আমরা জনগণের সঙ্গে ছিলাম। সংসদ এই রায় মানুক আর না মানুক, আমরা তা বাস্তবায়ন করবই। ঘুঘু তুমি বারবার ধান খেয়েছ, কিন্তু এবার জালে ধরা পড়ার সময় এসেছে। এবার জনগণের ধান খাওয়ার চেষ্টা করলে ডানা-পা অবশ করে দেওয়া হবে।”
সরকারের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, সংসদে সরকারি দলের কথায় মনে হয় দেশে ‘সোনার নহর’ বইছে, অথচ জ্বালানি সংকটের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। কৃষকরা সেচের পানির অভাবে হাহাকার করছেন, খোলা তেলের বদলে ‘কার্ড’ প্রথা চালু করে কৃষিকে সংকটে ফেলা হচ্ছে। এমনকি জ্বালানি সাশ্রয়ের নামে স্কুল বন্ধ করে শিশুদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেওয়ার তীব্র প্রতিবাদ জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট এস এম শাহরিয়ার কবির বলেন, ১২ এপ্রিলের মধ্যে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়িত না হলে দেশ এক ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে যাবে। প্রধান বক্তা জাগপা সভাপতি তাসমিয়া প্রধান হুংকার দিয়ে বলেন, চব্বিশের শহীদদের রক্ত আর তরুণদের ত্যাগ অস্বীকার করলে দেশবাসী আরেকটি গণ-অভ্যুত্থান ঘটাতে দ্বিধা করবে না। জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান বিএনপির সমালোচনা করে বলেন, ৫১ শতাংশ সমর্থন নিয়ে ৭০ শতাংশ মানুষের গণভোটের রায় বাতিল করার চেষ্টা করা দুঃসাহস মাত্র।
যুব জাগপার সভাপতি নজরুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা হাসিনুর রহমান, জাগপা সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেনসহ সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।