নির্বাচন পরবর্তী প্রথম বৈঠক; মির্জা ফখরুলের মুখে নতুন সাংগঠনিক বার্তার রহস্য

দীর্ঘ রাজনৈতিক স্থবিরতা কাটিয়ে এবার সাংগঠনিক পুনর্গঠনে নড়েচড়ে বসছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও শক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। শনিবার রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এটিই ছিল বিএনপির নীতি-নির্ধারণী ফোরাম ‘স্থায়ী কমিটির’ প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে লন্ডন থেকে যুক্ত হয়ে বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই বৈঠকে দলের বর্তমান রাজনৈতিক কৌশল এবং ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, "আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দলকে কাউন্সিলের দিকে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করেছি। আমাদের মূল লক্ষ্য এখন তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত দলকে ঢেলে সাজানো। অতি দ্রুত কাউন্সিল সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরুর চেষ্টা করব আমরা।"

বৈঠকের অভ্যন্তরীণ আলোচনার বিষয়ে মির্জা ফখরুল আরও স্পষ্ট করেন যে, মূলত দলের নিয়মিত কার্যক্রম গতিশীল রাখতেই এই সভা আহ্বান করা হয়েছিল। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান সরকারের কর্মকাণ্ডের বিপরীতে বিএনপির গৃহীত কর্মসূচিগুলো নিয়ে স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মতামত গ্রহণ করেন। এসময় জ্যেষ্ঠ নেতারা দলের ভবিষ্যৎ পথচলা এবং সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করতে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ প্রদান করেন।

আসন্ন কোরবানি ঈদের আগেই কাউন্সিল হওয়ার কোনো সম্ভাবনা আছে কি না - সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মহাসচিব জানান, এত বড় একটি কর্মযজ্ঞের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতির প্রয়োজন। তিনি বলেন, "আগামী কোরবানি ঈদের আগে কাউন্সিল হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। একটি সফল জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে আমাদের হাতে অন্তত আরও কয়েক মাস সময় প্রয়োজন।" এছাড়া বৈঠকে সংরক্ষিত নারী আসন বা সংসদীয় কোনো বিষয়ে আলোচনা হয়নি বলেও তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে সশরীরে ও ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বেগম সেলিমা রহমান এবং অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণে বর্তমানে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় বৈঠকে অংশ নিতে পারেননি দলের অন্যতম শীর্ষ নেতা মির্জা আব্বাস।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া