অস্ট্রেলিয়ার ভিসা বাতিলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে চলমান আলোচনা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মুখরোচক প্রচারণার বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন জনপ্রিয় ইসলামিক ব্যক্তিত্ব ও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ। সোমবার (১৫ এপ্রিল) নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ বিবৃতিতে তিনি এই পরিস্থিতির পেছনের প্রকৃত কারণ ও আন্তর্জাতিক লবির প্রভাব নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরেন।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে শায়খ আহমাদুল্লাহ জানান, প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটি বিশেষ আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে গত সপ্তাহে তিনি অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়েছিলেন। সফলভাবে অনুষ্ঠান শেষ করে জরুরি সাংগঠনিক কাজে গত শনিবার তিনি দেশে ফিরে আসেন। তবে দেশে ফেরার দুদিন পর, আজ সোমবার সকালে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে জানতে পারেন যে তাঁর অস্ট্রেলীয় ভিসাটি বাতিল করা হয়েছে। ভিসা কর্তৃপক্ষের পাঠানো সেই আনুষ্ঠানিক চিঠিতে (ফর্মাল লেটার) উল্লেখ করা হয়েছে- আবেদনকারী যে উদ্দেশ্যে অস্ট্রেলিয়া সফর করতে চেয়েছিলেন, সেই উদ্দেশ্য ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং তিনি নিজ দেশে ফিরে গেছেন। ফলে বর্তমানে এই ভিসার আর কোনো আবশ্যকতা বা প্রয়োজনীয়তা নেই।
তবে এই বিষয়ের পেছনে কোনো নির্দিষ্ট মহলের বিশেষ উসকানি রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন এই ধর্মীয় আলোচক। তাঁর মতে, অস্ট্রেলিয়ার কিছু চিহ্নিত ইসলামবিদ্বেষী মহল ও কতিপয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তাঁর বিভিন্ন বক্তব্যের খণ্ডিত অংশ এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিকৃত অনুবাদ সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিয়েছে। এই অপপ্রচারের ফলে ভিসা কর্তৃপক্ষ বিভ্রান্ত বা প্রভাবিত হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যেকোনো ধরনের অভিযোগ আমলে নেওয়ার আগে সঠিক তথ্য যাচাই-বাছাই করা এবং নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি ছিল।”
পুরো বিষয়টির পেছনে একটি গভীর আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিয়েছেন শায়খ আহমাদুল্লাহ। তিনি উল্লেখ করেন, গত জানুয়ারি মাসে ‘ইসলামোফোবিক কনটেন্ট’ তৈরির দায়ে সামি ইয়াহুদ নামে একজন ইসরায়েলি ইনফ্লুয়েন্সারের ভিসা বাতিল করেছিল অস্ট্রেলিয়া সরকার। ধারণা করা হচ্ছে, সেই ঘটনার প্রতিশোধ নিতে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভারসাম্য রক্ষার অজুহাতে একটি শক্তিশালী ইসরায়েলি লবির চাপে তাঁর বিরুদ্ধে এই ষড়যন্ত্রমূলক প্রচারণা চালানো হয়েছে।
বিবৃতির শেষে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে জানান, কোনো ধর্ম, জাতি বা নির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠীর প্রতি তাঁর কোনো ব্যক্তিগত বিদ্বেষ নেই। বরং বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর ঘটে যাওয়া যেকোনো বিচ্ছিন্ন অন্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি সবসময় সোচ্চার ছিলেন। উল্লেখ্য, গত বছরও তিনি কোনো সমস্যা ছাড়াই সিডনিতে বাংলাদেশি কমিউনিটির বড় একটি সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন।
প্রসঙ্গত, শায়খ আহমাদুল্লাহর এই ঘটনার মাত্র একদিন আগেই বাংলাদেশের আরেক প্রখ্যাত ইসলামিক বক্তা মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারীর ভিসা বাতিল করেছে অস্ট্রেলিয়া। আজহারীর বিরুদ্ধে ইহুদিবিদ্বেষী ও উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদানের অভিযোগ আনা হলেও বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া