শোকাতুর বিনোদন অঙ্গন: না ফেরার দেশে চলে গেলেন অভিনেত্রী বন্যা মির্জার বাবা

দেশের নাট্যাঙ্গনের সুপরিচিত ও জনপ্রিয় অভিনেত্রী বন্যা মির্জার পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। তাঁর বাবা মির্জা ফারুক আজ বুধবার সকালে রাজধানীর নিজ বাসভবনে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বরেণ্য এই ব্যক্তিত্বের জীবনাবসানের সংবাদটি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন প্রখ্যাত নাট্যকার মাসুম রেজা।

পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, মির্জা ফারুক আজ ১৫ এপ্রিল সকাল ১০টার দিকে বার্ধক্যজনিত কারণে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। তিনি কেবল এক জন গর্বিত পিতাই ছিলেন না, বরং লাল-সবুজ পতাকার তরে লড়াই করা এক জন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। পেশাগত জীবনেও তিনি অত্যন্ত সফল ও নিষ্ঠাবান ছিলেন। সরকারি চাকরি জীবনে তিনি পরিবার পরিকল্পনা পরিদপ্তরের পরিচালক হিসেবে অত্যন্ত সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেন এবং সেখান থেকেই অবসরে যান। বর্তমানে তাঁর জানাজা ও দাফনের স্থান সংক্রান্ত বিষয়ে পরিবারের সদস্যরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

জনপ্রিয় অভিনেত্রী বন্যা মির্জা বর্তমানে বাংলাদেশের সীমানা ছাড়িয়ে সুদূর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। সেখানে তিনি একটি করপোরেট প্রতিষ্ঠানে উচ্চপদে কর্মরত রয়েছেন। হাজার মাইল দূরে অবস্থানকালেই বাবার এই আকস্মিক মৃত্যুর সংবাদ তাঁর কাছে পৌঁছায়। এই শোক সংবাদে শোবিজ অঙ্গনের তাঁর দীর্ঘদিনের সহকর্মী, নির্মাতা ও অগণিত ভক্তদের মাঝে বিষাদের ছায়া নেমে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকবার্তা প্রকাশ করছেন।

বন্যা মির্জা বাংলাদেশের ছোট পর্দার এক জন প্রবাদপ্রতিম অভিনেত্রী। বিশেষ করে ‘রঙের মানুষ’ ও ‘ভবের হাট’-এর মতো কালজয়ী ও জনপ্রিয় সব ধারাবাহিক নাটকে অনবদ্য অভিনয় করে তিনি এ দেশের দর্শক হৃদয়ে স্থায়ী আসন গড়ে নিয়েছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনেও তিনি অত্যন্ত রুচিশীল ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। এই কঠিন সময়ে তাঁর পরিবারের পাশে থাকতে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ সমবেদনা প্রকাশ করছেন। বীর এই মুক্তিযোদ্ধার প্রয়াণে দেশ এক জন দেশপ্রেমিক নাগরিক ও দক্ষ কর্মকর্তাকে হারাল।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।