বলিউডের শক্তিমান অভিনেতা অক্ষয় খান্না বর্তমানে তাঁর ক্যারিয়ারের এক অনন্য বসন্ত উদযাপন করছেন। সাম্প্রতিক সময়ে ‘ধুরন্ধর’ ছবির অভাবনীয় সাফল্যের পর এই বর্ষীয়ান অভিনেতাকে নিয়ে দর্শকদের মাঝে নতুন করে উন্মাদনা তৈরি হয়েছে। তবে রূপালি পর্দার এই সাফল্যের পথটি অনেকটা প্রশস্ত হয়েছিল আরেক দক্ষ অভিনেতা রণদীপ হুদার একটি অনাকাঙ্ক্ষিত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রণদীপ নিজেই প্রকাশ করেছেন যে, গত বছরের অন্যতম ব্লকবাস্টার সিনেমা ‘ছাওয়া’-তে প্রধান খলনায়কের চরিত্রে অভিনয়ের প্রথম প্রস্তাবটি অক্ষয় খান্নার কাছে যাওয়ার আগে তাঁর কাছেই এসেছিল।
২০২৫ সালের ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয় ‘ছাওয়া’। প্রখ্যাত মারাঠি সাহিত্যিক শিবাজী সাওয়ান্তের জনপ্রিয় উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত এই ছবিতে মারাঠা বীর সম্ভাজির জীবনগাথা তুলে ধরা হয়েছে। ছবিতে সম্ভাজির চরিত্রে ভিকি কৌশলের অনবদ্য অভিনয়ের পাশাপাশি মুঘল সম্রাট ঔরঙ্গজেবের চরিত্রে অক্ষয় খান্নার বিধ্বংসী উপস্থিতি দর্শকদের স্তম্ভিত করে দিয়েছিল। প্রায় ৭০০ কোটি রুপির ব্যবসা করা এই ছবির মাধ্যমেই অক্ষয় খান্না ইন্ডাস্ট্রিতে তাঁর হারানো জৌলুস ফিরে পান এবং নিজের পারিশ্রমিক বহুগুণ বাড়িয়ে দেন।
তবে রণদীপ হুদা কেন এই লোভনীয় প্রস্তাবটি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন, তা নিয়ে কৌতূহল ছিল অনেকের মনে। বিষয়টি পরিষ্কার করে রণদীপ জানান, সেই সময় তিনি তাঁর নিজস্ব স্বপ্নের প্রজেক্ট ‘সাভরকর’ নিয়ে অত্যন্ত ব্যস্ত ছিলেন। সিনেমাটি নিয়ে তাঁকে নিয়মিত আদালতের বারান্দায় দৌড়ঝাঁপ করতে হচ্ছিল এবং আইনি জটিলতা নিরসনে প্রচুর সময় ব্যয় করতে হচ্ছিল। এর পাশাপাশি ‘ছাওয়া’ সিনেমার প্রেক্ষাপটে থাকা হিন্দু-মুসলিম সংঘাতের স্পর্শকাতর বিষয়টিও তাঁর মাথায় ছিল। রণদীপের ভাষায়, “সেই পরিস্থিতিতে আমি মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলাম না। নতুন করে কোনো আইনি বা রাজনৈতিক বিতর্কের ছায়া যাতে আমার ওপর না পড়ে, সে জন্যই আমি ঔরঙ্গজেব চরিত্রটি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই।”
রণদীপের সেই ছেড়ে দেওয়া সুযোগটিই পরবর্তীতে অক্ষয় খান্নার ক্যারিয়ারে তুরুপের তাস হিসেবে আবির্ভূত হয়। অক্ষয় এই জটিল চরিত্রে নিজের মেধার পূর্ণ প্রতিফলন ঘটিয়ে প্রমাণ করেছেন কেন তাঁকে বলিউডের অন্যতম ‘ভার্সেটাইল’ অভিনেতা বলা হয়। রণদীপের মনে এই সুযোগ হারানো নিয়ে কোনো আক্ষেপ না থাকলেও, নেটিজেনদের মতে এটি ছিল বলিউডের কাস্টিং ইতিহাসের অন্যতম বড় একটি মোড়। রণদীপের ‘না’ আর অক্ষয়ের অদম্য ইচ্ছাশক্তি শেষ পর্যন্ত বক্স অফিসে এক নতুন মহাকাব্যের জন্ম দিয়েছে।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।