মৌসুমীর পর এবার বিস্ফোরক জেবা জান্নাত: ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ নিয়ে বিনোদন অঙ্গনে তোলপাড়

ঢালিউডের অন্দরে ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ নামক একটি প্রোডাকশনকে কেন্দ্র করে বিতর্কের ডালপালা ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে। পরিচালক হাসান জাহাঙ্গীরের এই প্রজেক্টটি নিয়ে ইতিমধেই জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা মৌসুমী গুরুতর অভিযোগ তুলেছিলেন। তাঁর রেশ কাটতে না কাটতেই এবার একই পরিচালকের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও অনৈতিক আচরণের অভিযোগ নিয়ে সরব হয়েছেন সময়ের আলোচিত অভিনেত্রী জেবা জান্নাত। অভিযোগ উঠেছে, একটি একক নাটকের শুটিংয়ের ফুটেজ ব্যবহার করে সেটিকে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা করছেন পরিচালক।

ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ সিনেমার পোস্টারে নিজের ছবি দেখতে পান জেবা জান্নাত। এ বিষয়ে তিনি গণমাধ্যমের কাছে বিস্ময় প্রকাশ করে জানান, এই নামে কোনো সিনেমা কিংবা নাটকে তিনি সচেতনভাবে অভিনয়ই করেননি। বিষয়টি নিয়ে পরিচালক হাসান জাহাঙ্গীরের কাছ থেকে কোনো সদুত্তর না পেয়ে তিনি আইনি ও প্রশাসনিক লড়াইয়ের পথ বেছে নিয়েছেন। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডসহ চলচ্চিত্রের বিভিন্ন প্রভাবশালী সংগঠনে এবং অভিনয়শিল্পীদের সংগঠন ‘অ্যাক্টরস ইক্যুইটি’তে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন এই অভিনেত্রী।

অভিযোগপত্রে জেবা জান্নাত উল্লেখ করেছেন যে, তিনি হাসান জাহাঙ্গীরের সাথে একটি একক নাটকে অভিনয়ের জন্য মৌখিকভাবে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন। ওই নাটকে তাঁর সহশিল্পী হিসেবে সিয়াম মৃধার থাকার কথা ছিল। কিন্তু শুটিং সেটে অদ্ভুতভাবে সিয়াম মৃধার পরিবর্তে খোদ হাসান জাহাঙ্গীরই জেবার বিপরীতে অভিনয় করেন। জেবা এ বিষয়ে প্রশ্ন তুললে পরিচালক তখন সাফাই গেয়েছিলেন যে, এটি মূলত একটি ‘স্বপ্নের দৃশ্য’ বা ড্রিম সিকুয়েন্স। সরল বিশ্বাসে বিষয়টি মেনে নিলেও, শুটিং শেষ হওয়ার দীর্ঘদিন পর সিনেমার পোস্টারে নিজের ছবি দেখে হতবাক হয়ে যান তিনি।

জেবা জান্নাতের দাবি, সিনেমা নির্মাণের বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কোনো লিখিত বা মৌখিক চুক্তি তো দূরের কথা, কোনো আলোচনাও হয়নি। বর্তমানে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে শুটিংয়ের চরম ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। কিন্তু এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্কের কারণে তিনি মানসিকভাবে এতটাই বিপর্যস্ত যে, পেশাদার কাজে মনোযোগ দিতে হিমশিম খাচ্ছেন।

সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেবা বলেন, “আমি আমার ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের চেয়ে এই অনৈতিকতার বিরুদ্ধে লড়াই করাকে বড় মনে করছি। এভাবে নাটকের ফুটেজ দিয়ে সিনেমা বানিয়ে দর্শক ও শিল্পীদের সাথে প্রতারণা করা স্পষ্টত অনৈতিক। একজন মানুষ এমন জালিয়াতি করে কীভাবে পার পেয়ে যেতে পারেন, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।” উল্লেখ্য, এর আগে মৌসুমীও অভিযোগ করেছিলেন যে যুক্তরাষ্ট্রে নাটক হিসেবে শুটিং করা প্রজেক্টটি এখন সিনেমা হিসেবে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে। একের পর এক এমন অভিযোগে ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ সিনেমার ভবিষ্যৎ এবং পরিচালকের পেশাদারিত্ব এখন খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।