ভিয়েতনামে বাংলাদেশের জয়জয়কার: ডা নাং উৎসবে সমালোচকদের বিচারে সেরা ছবি ‘রইদ’

আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে বাংলাদেশের মুকুটে যুক্ত হলো আরও একটি উজ্জ্বল পালক। ভিয়েতনামে অনুষ্ঠিত চতুর্থ ‘ডা নাং এশিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল’-এ সমালোচক (ক্রিটিকস) বিভাগে সেরা ছবির মর্যাদা অর্জন করেছে মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত বহুল আলোচিত সিনেমা ‘রইদ’। এই অর্জনের মধ্য দিয়ে বিশ্বমঞ্চে এশীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ আসরে দেশের নাম উজ্জ্বল করলেন এই নির্মাতা।

এশীয় চলচ্চিত্রের বিশেষ ‘প্ল্যাটফর্ম’ হিসেবে পরিচিত এই উৎসবের চতুর্থ আসরের পর্দা উঠেছিল গত ২৭ জুন। দীর্ঘ আট দিনের এই আয়োজনে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সেরা সব চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়। গত শনিবার (৪ জুলাই) জাঁকজমকপূর্ণ সমাপনী অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়, যেখানে ‘সমালোচক বিভাগে সেরা ছবি’ হিসেবে বাংলাদেশের ‘রইদ’-এর নাম ঘোষিত হয়। এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য এক বিশাল প্রাপ্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিজয় অর্জনের পর এক আবেগঘন বার্তায় নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমন তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, এমন একটি আন্তর্জাতিক সম্মাননা তাঁকে ভীষণভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। উৎসব কর্তৃপক্ষ তাঁদের অঞ্চলের নিজস্ব ও মৌলিক গল্পকে গুরুত্ব দিয়ে ‘রইদ’-কে শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পরানোয় তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বিশেষ ধন্যবাদ জানান উৎসবের জুরি বোর্ডকে।

উল্লেখ্য, এটিই ‘রইদ’-এর প্রথম আন্তর্জাতিক অর্জন নয়। এর আগে সিনেমাটি নেদারল্যান্ডসের মর্যাদাপূর্ণ ‘রটারডাম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব’-এর মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিল। যদিও সেখানে কোনো পুরস্কার জিততে পারেনি, তবে রটারডামের মতো বড় মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করা ছিল এক অনন্য মাইলফলক।

সিনেমাটি দেশের মাটিতেও ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই ‘রইদ’ দর্শকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এবং বর্তমানে দেশের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে দাপটের সাথে প্রদর্শিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই পুরস্কার জয়ের ফলে সিনেমাটির প্রতি সাধারণ দর্শকদের আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মেজবাউর রহমান সুমনের এই অনবদ্য সৃষ্টিতে প্রধান দুই চরিত্রে অভিনয় করেছেন মোস্তাফিজুর নূর ইমরান ও নাজিফা তুষি। এছাড়াও পার্শ্বচরিত্রে গুরুত্বপূর্ণ অভিনয় করেছেন আহসাবুল ইয়ামিন রিয়াদ এবং বরেণ্য অভিনেতা গাজী রাকায়েত। গল্পের বুনন ও নির্মাণের মুন্সিয়ানায় ‘রইদ’ কেবল স্থানীয় দর্শকদেরই নয়, বরং আন্তর্জাতিক বিশ্বের চলচ্চিত্র সমালোচকদের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছে, যা বর্তমান সময়ের গ্লোবাল সিনেমা বাজারে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও সুসংহত করল।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।