দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির প্রথম সারির অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণান বর্তমানে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ও ভীতিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। দীর্ঘ সময় ধরে সহ-অভিনেতা থালাপথি বিজয়ের সাথে তাঁর তথাকথিত ‘বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক’ নিয়ে যে বিতর্ক চলছিল, তা যেন এবার অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার পর্যায়ে পৌঁছেছে। সম্প্রতি তামিলনাড়ুর ডিজিপি কন্ট্রোলরুমে (DGP Control Room) একটি উড়ো ফোন কল আসে, যেখানে দাবি করা হয়—চেন্নাইয়ের আলওয়ারপেটে অবস্থিত তৃষা কৃষ্ণানের বাসভবন এবং প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশের ডেপুটি কনস্যুলেটে বোমা পাতা হয়েছে।
এই খবর পাওয়ার পর মুহূর্তেই চেন্নাই পুলিশের উচ্চপর্যায়ে তোলপাড় শুরু হয়। তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের একটি বিশেষ দল, শনাক্তকারী কুকুর (Sniffer Dog) এবং অত্যাধুনিক বোমা নিষ্ক্রিয়কারী স্কোয়াড নিয়ে আলওয়ারপেট এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চালায়। একই সাথে বাংলাদেশ ডেপুটি কনস্যুলেটেও কড়া নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়। তবে দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার নিবিড় অনুসন্ধানের পর কোনো বিস্ফোরক দ্রব্য না পাওয়ায় পুলিশ নিশ্চিত করে যে, পুরো বিষয়টি ছিল একটি ‘হুক্স’ (Hoax) বা ভুয়া হুমকি।
উল্লেখ্য যে, এটি তৃষার জন্য প্রথম অভিজ্ঞতা নয়। এর আগেও ২০২৫ সালের অক্টোবরে তাঁর বাড়িতে বোমা থাকার একটি ভুয়া ইমেইল পাঠিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়েছিল। শুধু তৃষা কৃষ্ণানই নন, সাম্প্রতিক সময়ে মেগাস্টার রজনীকান্ত এবং অভিনেতা ধনুষের বাসভবনেও একই ধরনের বেনামি হুমকি পাঠানো হয়েছিল। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ২০২৫ সাল থেকে একদল সংঘবদ্ধ অপরাধী পরিকল্পিতভাবে জনপ্রিয় তারকা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের লক্ষ্য করে এ ধরনের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করার মতো হুমকি দিয়ে আসছে।
তবে এমন গুরুতর হুমকির মুখেও তৃষা কৃষ্ণান নিজেকে বেশ শান্ত রেখেছেন। এই বোমাতঙ্কের খবরের মাঝেই নিজের ইনস্টাগ্রামে (Instagram) একটি নতুন পোস্ট শেয়ার করে তিনি তাঁর ভক্তদের আশ্বস্ত করেছেন যে তিনি সম্পূর্ণ নিরাপদ। পোস্টে তাঁর প্রিয় পোষা কুকুরের একটি ছবি দিয়ে ক্যাপশনে তিনি মজার ছলে লিখেছেন—‘আমার মায়ের ব্যাগে কেউ হাত দেবে না। আর মা-ও দিতে পারবে না, যদি না সে আমাকেও সঙ্গে নিয়ে যায়।’ পোষা প্রাণীর প্রতি তাঁর এই গভীর মমতা এবং প্রতিকূল পরিস্থিতির মাঝেও এমন হালকা মেজাজের পোস্ট দেখে ভক্তরা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ভুয়া ফোন কলটি কোথা থেকে এসেছিল তা শনাক্ত করার জন্য সাইবার ক্রাইম ইউনিট (Cyber Crime Unit) কাজ করছে। জনমনে অহেতুক আতঙ্ক সৃষ্টি এবং ভিআইপিদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অপরাধে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছে চেন্নাই প্রশাসন। আপাতত বোমাতঙ্ক কাটিয়ে তৃষা পুনরায় তাঁর প্রাত্যহিক কাজে ফিরেছেন বলে জানা গেছে।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।