দক্ষিণী ও বলিউড সিনেমার মেলবন্ধনে নির্মিতব্য বিগ বাজেটের সিনেমা ‘পেদ্দি’ মুক্তির আগেই এক অনাকাঙ্ক্ষিত আইনি ও সামাজিক বিতর্কের মুখে পড়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ছবির টিজার ও প্রমোশনে জাহ্নবী কাপুর অভিনীত চরিত্রটিকে গল্পের প্রয়োজনে নয়, বরং কেবল দর্শকদের আকৃষ্ট করতে অতিরিক্ত আবেদনময়ী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। সমালোচকদের মতে, নির্দিষ্ট কিছু ক্যামেরা ‘অ্যাঙ্গেল’ এবং নায়কের মুখে জাহ্নবীর শারীরিক সৌন্দর্যের অতি-বর্ণনা চরিত্রটির শৈল্পিক গভীরতাকে ম্লান করে দিয়েছে। সিনেমার এই বাণিজ্যিক কৌশলকে অনেকেই নারী অবমাননা হিসেবে দেখছেন।
চলমান এই বিতর্ক নিয়ে সম্প্রতি মুখ খুলেছেন বলিউডের প্রভাবশালী অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাওয়াত। তাঁর আসন্ন সিনেমা ‘ভারত ভাগ্য বিধাতা’-র প্রচারণায় এসে সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই বিষয়ে নিজের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি শেয়ার করেন। কঙ্গনা জানান, পর্দায় নারীদের পণ্য হিসেবে উপস্থাপনের জন্য তিনি কেবল পরিচালক বা লেখককে এককভাবে দায়ী করতে রাজি নন। তাঁর মতে, অভিনয়ের গণ্ডি কেবল সংলাপ আওড়ানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং দৃশ্যটি কীভাবে ধারণ করা হচ্ছে সে বিষয়েও কথা বলার সুযোগ থাকে।
সাক্ষাৎকারে কঙ্গনা অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে বলেন, “সিনেমাপ্রেমী বা নির্মাতাদের কেউই সাধারণত উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাউকে ছোট করার বা পণ্য হিসেবে দেখানোর মানসিকতা নিয়ে কাজ শুরু করেন না। সিনেমা একটি সুসংগঠিত যৌথ প্রয়াস। কাজ করার সময় যদি কোনো দৃশ্য বা ক্যামেরার অবস্থানকে সমস্যার কারণ মনে হয়, তবে সংশ্লিষ্ট অভিনয়শিল্পীদের সেখানে আপত্তি জানানোর এবং গঠনমূলক আলোচনার পূর্ণ সুযোগ থাকে।” তিনি মনে করেন, একজন সচেতন শিল্পী হিসেবে নিজের চরিত্রের মর্যাদা রক্ষা করা তাঁদের পেশাদারিত্বেরই অংশ।
পর্দায় এমন উপস্থাপনের পেছনে কঙ্গনা মূলত চিত্রনাট্য লেখা এবং তার বাস্তব রূপায়নের মধ্যকার ধারণাগত পার্থক্যকে দায়ী করেছেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, অনেক সময় লেখক বা পরিচালকেরা শুরুতে একটি দৃশ্য যেভাবে কল্পনা করেন, তা যখন বাস্তবে দৃশ্যায়ন করা হয়, তখন তা ভিন্ন রূপ নিতে পারে। এমতাবস্থায় সেটে উপস্থিত থেকে অভিনয়শিল্পীদেরই এগিয়ে আসতে হবে। কঙ্গনার এই মন্তব্য মূলত জাহ্নবী কাপুরের মতো তরুণ তারকাদের প্রতি এক প্রচ্ছন্ন বার্তা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
সবশেষে কঙ্গনা পুনর্ব্যক্ত করেন যে, একবার একজন অভিনয়শিল্পী কোনো প্রজেক্টে চুক্তিবদ্ধ হয়ে গেলে, সেটি আর কারো একক সিদ্ধান্ত থাকে না; বরং পুরো ছবিটির ভালো-মন্দের নৈতিক দায়ভার তখন সবার ওপরই বর্তায়। ‘পেদ্দি’ সিনেমাটির এই বিতর্ক যখন ঢালিউড ও টলিউডের অন্দরেও আলোচনার জন্ম দিচ্ছে, তখন কঙ্গনার এই ‘স্মার্ট’ ও যুক্তিনির্ভর অবস্থান চলচ্চিত্র মহলে প্রশংসিত হচ্ছে।
ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।