পর্দার আড়ালে কোন কালো ছায়া? দীর্ঘ বিরতির পর বলিউড নিয়ে বিস্ফোরক নওহিদ সাইরুসি

বলিউডের রূপালি জগতের ঝলমলে আলোকচ্ছটার আড়ালে যে কত তিক্ত বাস্তবতা আর দীর্ঘশ্বাস লুকিয়ে থাকে, তা নিয়ে আবারও নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুললেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী নওহিদ সাইরুসি। ‘আনওয়ার’ সিনেমার মাধ্যমে একসময় দর্শকহৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া এই অভিনেত্রীকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বড় পর্দায় আর সেভাবে দেখা যাচ্ছিল না। ভক্তদের মনে দীর্ঘদিনের প্রশ্ন ছিল—কেন জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা সত্ত্বেও তিনি ইন্ডাস্ট্রি থেকে দূরে সরে গেলেন? অবশেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে নিজের ক্যারিয়ারের সেই অন্ধকার অধ্যায় ও অঘোষিত সব শর্ত নিয়ে নীরবতা ভাঙলেন তিনি।

নওহিদ তাঁর অনুপস্থিতির অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে বর্তমান সময়ের ‘অপ্রয়োজনীয়’ ঘনিষ্ঠ দৃশ্যের চাপের কথা উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি, বর্তমানে বলিউডে অভিনয়ের কোনো চুক্তিতে সই করার অর্থই হলো অভিনেত্রীকে চুম্বন বা অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয়ের মানসিক প্রস্তুতি রাখতে হবে। নওহিদ আক্ষেপের সুরে বলেন, ‘এখন গল্পের প্রয়োজনে নয়, বরং প্রায় অকারণেই সিনেমায় চুম্বনের দৃশ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়। আমি ব্যক্তিগতভাবে এসবে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি না। অনেক সময় আমার পক্ষ থেকে সরাসরি না বলার আগেই আমাকে কৌশলে বিভিন্ন প্রজেক্ট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।’ এই অটল অবস্থানই তাঁর ক্যারিয়ারের গতিপথ বদলে দিয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

কেবল অভিনয়ের শর্তই নয়, বলিউডের আর্থিক লেনদেন ও পেশাদারিত্ব নিয়েও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন এই অভিনেত্রী। নওহিদ জানান, ইন্ডাস্ট্রিতে চুক্তি অনুযায়ী পুরো পারিশ্রমিক পাওয়া এক প্রকার ভাগ্যের ব্যাপার। অনেক বড় বড় ‘প্রোডিউসার’ বা প্রযোজক শুটিং শেষ হওয়ার পর নানা অজুহাতে মোট পারিশ্রমিকের প্রায় ২৫ শতাংশ টাকা আটকে রাখেন। নওহিদের ভাষায়, ‘সিনেমার ব্যবসা ভালো হয়নি কিংবা বাজেটের অভাব—এমন ঠুনকো অজুহাতে পাওনা টাকা আর দেওয়া হয় না। দিনশেষে আমি আমার কাজ শতভাগ সম্পন্ন করলেও প্রাপ্য সম্মান ও অর্থ থেকে বঞ্চিত হয়েছি।’

ইন্ডাস্ট্রির অভ্যন্তরীণ বিভাজন বা ‘ইনার সার্কেল’ নিয়েও মুখ খুলেছেন তিনি। নওহিদ জানান, প্রযোজক বা প্রভাবশালী তারকাদের বিশেষ মহলের সঙ্গে মেলামেশা না করায় তাঁকে বরাবরই অবহেলার শিকার হতে হয়েছে। ফলে মূল চরিত্রের পরিবর্তে তাঁকে বারবার ছোটখাটো চরিত্র যেমন—নায়কের বোন বা ভাবির ভূমিকায় অভিনয়ের প্রস্তাব দেওয়া হতো। সৃজনশীল অতৃপ্তি আর এই একঘেয়েমি থেকে বাঁচতেই তিনি বলিউড থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন।

তবে পর্দার মোহ ত্যাগ করলেও নওহিদ দমে যাননি। বর্তমানে তিনি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বা ‘সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার’ হিসেবে নতুন এক পরিচয় গড়ে তুলেছেন। ইনস্টাগ্রামে তাঁর জনপ্রিয়তা এখন আকাশচুম্বী। নওহিদ মনে করেন, রূপালি পর্দার কৃত্রিম দুনিয়ার চেয়ে এই ডিজিটাল মাধ্যমই এখন তাঁর জন্য সঠিক জায়গা। এখানে তিনি নিজের শর্তে বাঁচতে পারেন এবং কোনো অঘোষিত বাধ্যবাধকতা ছাড়াই ভক্তদের সাথে সরাসরি যুক্ত হতে পারেন। তাঁর এই সাহসী স্বীকারোক্তি বিনোদন জগতে নতুন এক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট, দেশ মিডিয়া।